২৫ হাজার টাকায় স্বপ্ননীড়

২৫ হাজার টাকায় স্বপ্ননীড়

তারিকুল ইসলাম:সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে স্বপ্ননীড়ের বাড়ি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্ণীতির প্রমান পাওয়া গেছে।সিলকো সংবাদের অনুসন্ধানী রিপোর্টে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার স্বপ্ননীড় নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে নানান এই অভিযোগ।

উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ১৫৭ টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে দুই শতক ভূমি ও স্বপ্ননীড়ের ঘর।যদিও ভূমি ও গৃহহীনরা এই বাড়ি পাওয়ার কথা  কিন্তু স্বচ্ছল ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যরাও ঘর পেয়েছে।আবার অনেক সচ্ছল কৃষকরাও পেয়েছে স্বপ্ননীড়ের ঘর।উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ভূমিহীন দেখিয়ে অন্যের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান মেম্বারের একাধিক আত্মীয়রাও পেয়েছে স্বপ্ননীড়ের ঘর।

  বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বপ্ননীড় নিয়ে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেছে আরো পাহাড়সম অভিযোগ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রাম থেকে পাওয়া গেছে অনেক অভিযোগ। এই গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সোনাচানের পরিবার পেয়েছে স্বপ্ননীড়ের পাঁচটি ঘর। ওই পরিবারে প্রবাসী আছেন দুইজন। গ্রীসে বসবাসরত সূর্যসেন ও ওমানে বসবাসরত সুষেন দাস।একজন সোনাচান মেম্বারের ছেলে অন্যজন নাতি।  সোনাচানের ছেলে সুরঞ্জিত দাস পেয়েছেন একটি ঘর। সোনাচানের তিন নাতি অশেষ দাস, অমীয় দাস ও আশীস দাস আরো পেয়েছেন তিনটি স্বপ্ননীড়। অশেষ, অমীয় ও আশীস আপন সহোদর। একই গ্রামে ৮টি পাকা খুঁটির তৈরিকৃত ঘর ভেঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্ননীড় তৈরি করা হয়েছে। এই ঘরটিও সোনাচান মেম্বারের ভাতিজা পঙ্কজ দাসের। এরা সবাই বসবাস করেন এক সাথে।

বিষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা শারীরিকভাবে অচল বসুদেব। তিনি জানান, তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর তিনি এখন একাকী। ৭০ বছর বয়স্ক বাসুদেবের সংসার চলে ভিক্ষা করে। তিনি ক্ষোভের সাথে জানালেন, প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েছেন। কিন্তু তার ভাগ্যে জুটেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার।

৬৫ বছর বয়সের স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে অনেক অনিয়ম ঘটেছে বিষ্ণপুর গ্রামে। প্রবাসীদের পরিবার পেয়েছেন স্বপ্ননীড়। পাকা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নতুন করে প্রধামন্ত্রীর স্বপ্ননীড় উপহার নিয়েছেন কেউ কেউ। আপন তিন ভাই উপহার নিয়েছেন তিনটি ঘর।

বিষ্ণপুর গ্রামের এক যুবক জানিয়েছেন যারা টাকা দিয়েছেন, তারাই পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্ননীড়। ঘর পাওয়ার যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে।

নানান অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক মেম্বার সোনাচান জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্ননীড় বরাদ্দ হয়েছে। এখানে অনিয়মের কিছু হয়েছে বলে, তিনি মনে করেন না।

উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের  গৌড়ি নগর গ্রামেও স্বপ্ননীড়ের ঘর নিয়ে হয়েছে দূর্ণীতি। মা ছেলে এক সাথে দুইটি ঘর পেতে দালালকে দিতে হয়েছে আর্থিক সুবিধা।এছাড়াও অন্যের নামে ঘর পেয়ে আর্থিক সুবিধায় ঘর পেয়েছে মাওলানা হাফিজ বেলাল আহমদ। সূত্রে জানা যায়,স্থানীয় পিআইও অফিসকে ম্যানেজ করে স্বপ্ননীড়ের ঘর বরাদ্দ বানিজ্য হয়েছে।

উপজেলার ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ছনবাড়ি গ্রামে রণ দাশ,মুতলিব আলী,নোয়ারিন বেগমের কাছ থেকে স্থানীয় দালাল আলা উদ্দিন ডা.হিমেল দাশ ও প্রনজিৎ  নামের এক স্কুল শিক্ষককে দিতে হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা।

ছনবাড়ি গ্রামের রণ দাশ প্রতিবেদককে জানান,গরু বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ডা. হিমেল দাশের হাতে।শুনেছি এই ঘর দিতে সরকার কোনো টাকা নিচ্ছে না।তবে হিমেল দাশ কিসের টাকা নিয়েছে?আমি আমার টাকা ফেরত চাই।

স্থানীয় মুরুব্বি এহসান আলী জানান,উপজেলার হিমেল দাশ,প্রনজিৎ, আলা উদ্দিন,বিকাশ এইরকম ডজনখানেক স্থানীয় দালালরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন পিআইও কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কান্তি দাশ,কার্য সহকারী তরুন দেব অধিকারীর নাম ভাঙ্গিয়ে।

এদিকে ঘুস বানিজ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেন ডা.হিমেল দাশ।হিমেল দাশ কর্তক স্বপ্ননীড় পাওয়া রণ দাশকে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদকের কাছে তথ্য দিয়েছেন যে,অনেকেই দালালদেরকে টাকা দিয়েছেন কিন্তু তারা ঘর পায়নি।

(এ/বাং-২৫ফেব্রুয়ারি-তা/ই)

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com