হে করোনা! শোন মানুষের কষ্টের কথা

হে করোনা! শোন মানুষের কষ্টের কথা
করোনায় ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য  কারা? শুরুতে এ কথা লেখার কারণ জানতে বন্ধুরা পুরো লেখাটি পড়ার অনুরোধ করছি। এ মুর্হুতে যারা দেশকে ভালবেসে,সরকারের নির্দেশ মেনে, নিজেকে – পরিবারকে এবং  দেশ ও  জাতিকে ভাল রাখতে- নিরাপদে রাখতে বাসা বাড়িতে / ঘরে অবস্থান করছেন,নিজের  চাকুরি, ব্যবসা,কর্ম বাদ দিয়ে (টাকা – পয়সা, খাদ্য সামগ্রী, সার্মথ্য থাকা সত্যেও অর্থাৎ সব থেকেও আজ দীর্ঘ ১৮/১৯ দিন বেকার,কর্মহীনভাবে রয়েছেন, তাদের অবস্থা  সত্যিকার অর্থে অনেক কষ্টের। অপর দিকে,যারা করোনাকে তোয়াক্কা না করে,সরকারের নির্দেশ না মেনে কর্ম করছেন,গাড়ি  চালাচ্ছেন,রিকশা, অটো,ভ্যানসহ অন্যান্য( জরুরি, রোগী বা বিশেষ প্রয়োজন) ছাড়া – তারাই ত্রাণ পাচ্ছে, যারা বাসা- বাড়িতে  আছেন – তাদের খবর নেই। বরং  উচিত  ছিল,যারা বর্তমান পরিস্থিতি মেনে চলছেন- তাদের পুরস্কার দেয়া আর যারা মানছেন না,তাদের শাস্তি দেয়া। আর রাস্তা- ঘাটে,হাট- বাজারে ত্রাণ না দেয়া।
মহামারী পরিস্থিতির কারনে আমাদের দেশসহ সারা বিশ্ব আজ দিশেহারা ।করোনা ভাইরাস আজ প্রতিটি মানবের অন্তরে কালো মেঘের ছায়া সৃষ্টি করেছে, যার নাম,ভয়,আতংক, কষ্ট – দুঃখ, নিরাপদ  সামাজিক দূরত্ব, কর্মহীনতা সবশেষ  অসহায়ত্ব এবং মৃত্যু। যুদ্ধ  যুদ্ধ খেলা শেষ কিন্তু তারপরও মৃত্যুর  মিছিল  থামছে না।বিশ্বব্যাপী আজ হাহাকার আর অসহায়ত্ববোধ।তারপরও আমাদের মাঝে প্রকৃত  মানবিকতা, আন্তরিকতা, ভালবাসা এবং সত্যিকার কষ্টে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষ কই? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সকলকে আশাবাদী করে বলেছেন কেউ না খেয়ে থাকবে না।বাস্তবে কি দেখছি আমরা। ত্রাণের মাল চুরি,ফটোসেশান, নিম্নমধ্য- মধ্যবিত্ত কর্মহীনদের পাশে থাকার, দেখার কেউ কি আছে? জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের  কথা,কাজ এবং  ভূমিকা  রহস্যজনক।রিকশা – ভ্যান,অটো ও সিএনজি চালক আর  প্রতিবন্ধী বা সমাজের কিছু অসহায়  কে নামমাত্র সাহায্য  দিয়ে  বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বা ত্রাণ না দিয়ে  এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব? আরেকটি  বিষয়, যারা দিন মজুর, তাদের খবর কে নেবে? যারা বিভিন্ন  কোম্পানি, দোকান,সংস্থা, প্রতিষ্ঠান,প্রেস- পত্রিকায় নিয়মিত – অনিয়মিত কাজ করতেন,দেশ- বিদেশে কর্মরত প্রবাসি,ব্যবসায়ি এসব শ্রেনীর লোকজন আজ বড় অসহায়, কষ্টে জজর্রিত। বিভিন্ন এলাকায় রিক্সা, ভ্যান,অটোরিকশা চালক ও সমাজের কিছু গরীব মানুষদের মাঝে সহায়তা করা হয় এখানেও নয়- ছয় হচ্ছে। আরেকটি  লক্ষণীয় বিষয়, রিকশা, অটো ও ভ্যান চালকরা ত্রানও নিচ্ছে  গাড়ী ও চালাচ্ছে। কিন্তু  সাধারণ মানুষ, দিন মজুর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেকার গৃহবন্দী মানুষজনের না আছে  এমুর্হুতে কর্ম,না আছে অর্থ এবং  মজুদ খাবার। তারা আজ নিদারুণ,  অসম্ভব কষ্ট মাটি চাপা দিয়ে  দিনাপাত করছেন।যদিও সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  বলা হচ্ছে, ” নিম্নবিত্ত / মধ্যবিত্ত” দের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা আছে এবং যোগাযোগের জন্য। আর কত লোকচুরি ২৬ মার্চ থেকে আজ ১৮/১৯ দিন অতিবাহিত হল দেশের কোন কর্ম হীন বেকার ( এ সময়ে), কোন মধ্যবিত্ত  ত্রান দিয়েছে বা পেয়েছে  আমার মনে হয় না। যারাই পেয়েছে তারা সুবিধা ভূগি। যেমন,শহর- নগর, হাট- বাজার বা রাস্তায় অহরহ চলাচল করছে তারাই পাচ্ছে। আর যারা সত্যিকার অর্থে  দেশকে ভালবেসে,সরকারের নির্দেশ মেনে, ঘরে আবদ্ধ  তারাই হচ্ছে বঞ্চিত। আমার প্রস্তাবঃ ১। আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে ত্রানসামগ্রী প্রদান করা।   (২)  কমপক্ষে ১০ দিন সারাদেশ অবরুদ্ধ, সব কিছু  বন্ধ ( জরুরি  ও প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়া) (৩)নিম্নবিত্ত- মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে এ মুর্হুতে কর্মহীন পরিবারের  তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে ত্রান প্রদান(৪)।প্রবাসিদের তালিকা করে সহায়তা প্রদান করা(৫) শহর-নগর, হাট- বাজার,রাস্তা – ঘাটে ত্রাণ না দেওয়া বরং উল্লেখিত স্থানে কাউকে পেলে শাস্তির  আওতায় আনা।( ৬) গ্যাস,বিদুৎ, পানির বিল ২/৩ মাস মওকুফ, ঋণ বা কিস্তির টাকা মওকুফ  বা  ৩/৪ মাস  বন্ধ  রাখা। (৭)  দেশের প্রতিটি নাগরিকের  বিশেষ  করে ( নিম্ন ও মধ্যবিত্ত),  কর্মহীন বেকার, প্রবাসি,দৈনন্দিন কর্মজীবিদের ত্রাণ নিশ্চিত  করা। যা হতে পারে জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর  যাচাই করার মাধ্যমে।( ৮) দেশের জেলা- উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিক, লেখক, কবি- সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক  কর্মীদের  সহায়তা  করা। (৯) সরকার যে ভাবেই দেশের মানুষদেরই সহায়তা  করুক,তা যেন দুর্নীতি মুক্ত ও স্বচ্ছ  হয়, সম্ভব  হলে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে  হয়। অথবা তালিকা করে ঘরে ঘরে পৌছানোর ব্যবস্থা থাকে।  পরিশেষে, দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপদ  সুন্দর  আগামী  এবং এ মুর্হুতে যারা মাঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন,তাদের  মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ১২/০৪/২০২০ইং
  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com