সোনা ঝরা শৈশব

সোনা ঝরা শৈশব

গ্রামেই কেটেছে আমার শৈশব
দেখেছি মায়ের আদর
বাবার স্নেহ, দাদীর সোহাগ।
দেখেছি একটি শিশু
মাটির গন্ধ শুকতে শুকতে
কিভাবে বেড়ে উঠে,
কাদা পানিতে ভিজতে ভিজতে
শিরদাড়া সোজা করে দাঁড়ায়॥

দেখেছি গ্রীষ্মের দুপুরে
বাড়ির পাশের পুকুরে
ঝাপটিয়ে পরতে খুকুরে।
মাঠ ফেরা কৃষকে
পান্তা ভাত আর পেঁয়াজে
পেট ভরাতো আমেজে।
সন্ধ্যা হতে রাত গভীরে
পূর্ণিমা বা আঁধারে
হোগলা পেতে উঠানে
শোলক আর কিচ্ছাতে
রাত হতো গভীরে॥

দেখেছি বর্ষায় পুকুর
ডোবা বা খালের পানিতে
লাই খেলতে খেলতে
চোখ মুখ লাল করে
কারো বকুনি খেয়ে
দৌড়ে পালাতে।
স্কুল ছুটি হলে কচু পাতা বা
কলা পাতা মাথায় দিয়ে
কাক ভেজা হয়ে বাড়ি ফিরতে।
দেখেছি খর পেঁচিয়ে বা
জাম্বুরা পেরে ধানের মাঠে
বল খেলতে খেলতে
সন্ধ্যা হয়ে যেতে।
বাড়ি ফিরে হারিকেনের চিমনি
আর চেরাগের সলতে ঠিক করে
প্রতি ঘরে আগুন জ্বালাতে॥

দেখেছি শীতের রাতে
ঘরের মেঝেতে খর বিছিয়ে
তার ওপর হোগলা বিছিয়ে
একটি মাত্র লেপে তিন চারজন
জড়াজড়ি করে কোন রকমে
শীত নিবারণ করতে।
সকালে কাঁপতে কাঁপতে
মুড়ির মোয়া আর মিঠাই হাতে
জড়োসড়ো হয়ে মক্তবে যেতে।
গম ক্ষেতের আইলে বসে
শালিক আর চড়ূই তাড়াতে॥

আজ আর আসে না
সোনা ঝরা সেই দিনগুলো
কচি কচি শাক আর
পাই না মূলো।
তবু আছি বেঁচে
তাকদিনা দিন নেচে॥

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com