সূচির ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

সূচির ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক

সূচির ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক

বর্তমান রাজনীতি, রোহিঙ্গা ও প্রধান বিচারপতি ইস্যুসহ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।
রোহিঙ্গাদের অবস্থা কি?
রোহিঙ্গা সম্পর্কে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ২৫ আগষ্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা স্রোতের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে রাখাইন প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না। রোহিঙ্গারা পৃথিবীর নাগরিকত্বহীন মানুষ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা যুগের পর যুগ বাস করেও নাগরিকত্ব নাই, মৌলিক অধিকার নাই, চাকুরি নাই, শিক্ষা নাই। মিয়ানমার ইচ্ছা করলে রাখাইন থেকে তাদের দেশের অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর করতে পারতো। তা না করে নারী, শিশু ও পুরুষদের হত্যা করছে। বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৭০ ভাগ।বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পৃথিবীকে আহবান করছে মিয়ানমারের উপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্য। যাতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নেয়।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে চীন-রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি কি?
আমাদের নিকট প্রতিবেশী চীন, রাশিয়া এবং ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্ধু হিসেবে সাহায্য করেছিলো। এখন আশা করবো চীন, রাশিয়া তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পজেটিভ ভাবে দেখাবে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরানসহ অনেক দেশ মিয়ানমারের উপর চাপ দিচ্ছে। যাতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়। অং সান সূচি আর্মির হাতের পুতুল হয়ে গেছে। তিনি একটা স্টেটমেন্টও দিতে পারছেন না। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তার ভূমিকা অত্যন্ত রহস্যজনক। মিয়ানমার যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিবে এটার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। অবশ্যই তাদেরকে ফেরত নিতে হবে। তারা বাংলাদেশের নাগরিক না। তারা মিয়ানমারের নাগরিক। মিয়ানমারের সরকার যে স্টেটমেন্ট দিচ্ছে তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার কি?
এটা ষড়যন্ত্র কিনা, আমরা জানি না। আমরা মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। তারা তো চরম অন্যায় করছে। তারা উস্কানিমূলক আচারণ করছে। আমরা মিয়ানমারের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে চাই।

প্রধান বিচারপতিকে বিচারের আওতায় আনা হবে কি?

প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন অসুস্থ। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। আবার যাওয়ার সময় বলেছেন তিনি সুস্থ। এখন এটার জবাব তিনি ভালো দিতে পারবেন। তিনি কেন সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা, আজকে এক কথা কালকে আরেক কথা বলছেন আমার বোধগম্য নয়। প্রধান বিচারপতির মুখে পরস্পর বিরোধী কথা শোভা পায় না। সমীচীন না। সুপ্রীম কোর্টের বিচারকবৃন্দ (৫জন বিচারক) সুচিন্তিত যে স্টেটমেন্ট দিয়েছে এর বাহিরে আর কোনো কথা নাই।
বিচারকরা সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন, দুর্নীতিগ্রস্থ বিচারকের সাথে আর বিচার কাজ করবেন না। প্রধান বিচারপতির পদটা একটা ব্যক্তি না, একটি প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো ভাবেই বির্তক করা যায় না। তার বিরুদ্ধের অভিযোগ আছে এটা তদন্ত করে আইন তার নির্দিষ্ট গতিতে চলবে। একজন প্রধান বিচারপতি মুখ দিয়ে যা ইচ্ছে তা বলা যায় না। কোনো মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে না। প্রধান বিচারপতি অপরাধ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার আইন তা নিবে।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com