লাল-মন্তাজের দখলে সওজ’র জমি:প্রশাসনের অনুমতিতে জমি দখলের দাবী

লাল-মন্তাজের দখলে সওজ’র জমি:প্রশাসনের অনুমতিতে জমি দখলের দাবী

তারিকুল ইসলাম:-কোম্পানীগঞ্জে এক জনপ্রতিনিধি ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে নিরিহ এক ব্যাক্তির দখলে থাকা মড়া নদী এবং সড়ক ও জনপদের ভূমি অপদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।সেই জনপ্রতি হচ্ছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া। জমি দখলের অভিযোগ এনে গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী আবুল হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে বসত-ভিটে বিক্রি করে ছেড়ে আসা আবুল হোসেন নামের এক ব্যাক্তির কাছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ার ভাই আব্দুল আহাদ কিছু সরকারী দখলীয় জমি বিক্রি করে। বিক্রির পূর্বে সেই জমিটি ছিল ধলাই নদীর মরা অংশ ও সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের একাংশ। জমিটির দখলস্বত্ব ক্রয় করে সেই জমিতে বাড়ি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল আবুল হোসেন নামীয় সেই ব্যাক্তি।সম্প্রতি সিলেট ভোলাগঞ্জ সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত হওয়ায় জমির দাম মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়।ফলে উক্ত জমির উপর লাল ও তার ভাইদের লুলুপ দৃষ্টি পরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সিলেট-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের ভাংতি নামক স্থানে তৈমুরনগর ব্রীজ সংলগ্ন থেকে শুরু করে পাড়ুয়া ব্রীজ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ার ভাই দুলাল মিয়া, আহাদ মিয়া,মন্তাজ মিয়া সহ ১৫/১৬ জনের একটি দখলবাজ চক্র সওজ এর ভূমি ও মরা নদীর পাড়  দখল করে দোকান ভিটে তৈরি করে অবৈধ বাজার গড়ে তুলেছে।ভাইস চেয়ারন্যান লাল মিয়া অত্র বাজারের নাম নিজের নামেই রেখে রাখা হয়েছে লাল বাজার।মহাসড়কের কিনার ঘেঁষে পুরাতন ধলাই নদীর মড়া অংশ রয়েছে। বর্ষাকালে এই মরা নদী দিয়ে আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের পানি প্রবাহিত হয়। এই মরা নদীতে মাটি ভরাট করে অবৈধ বাজার স্থাপন করায় বর্ষায় পানির তীব্রতায় নদী পাড়ে বসবাসকারীদের ভিটে বাড়ি ভাঙ্গণের ঝুকিতে রয়েছে।

অভিযোগকারী আবুল হোসেনের দাবীকৃত জমিতে এবং  সওজ ও মরা নদীর একাংশ দখল করে দোকান ভিটে নির্মাণকারী স্থানীয় মন্তাজ মিয়া জানান,উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মাটি ভরাট করা হচ্ছে।এখানে দোকান ভিটে তৈরি করা হবেও বলে জানান তিনি।সওজ বিভাগ তাকে এই জমি দান করেছেন। উল্লেখিত বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ার বিরুদ্ধে উক্ত জমি দখলের বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সূরাহা পায়নি বলে জানান আবুল হোসেন।

আবুল হোসেন আরো জানান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম।কিন্তু তিনি আমার অভিযোগটি ফিরিয়ে দেন।আমি নিরপায় হয়ে গোয়াইনঘাট সার্কেল বরাবর আরেকটি অভিযোগ দেই।

এই জমিটি নিয়ে লাল মিয়ার সাথে আমার বিরোধ অনেক পুরাতন। সে আমাকে বিভিন্ন সময় হত্যা করার হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রভাস সিংহ বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়েছি।দুই পক্ষকেই ২৪ ফেব্রুয়ারি কাগজ পত্র নিয়ে আসার জন্যে নোটিশ করেছি।কাগজপত্র দেখার পরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

(এ/বাং-২৩ ফেব্রুয়ারি-তা/ই)

  • শেয়ার করুন

সর্বশেষ খবর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com