মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি নেওয়া সেই ৮ শিক্ষকের বেতন স্থগিতসহ মামলা

মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি নেওয়া সেই ৮ শিক্ষকের বেতন স্থগিতসহ মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদে চাকরি করা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আট সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ভুয়া আট শিক্ষকের মধ্যে চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়া অভিযুক্ত ওই শিক্ষকদের লিখিত বক্তব্য ও মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত সকল প্রমাণসহ কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক নির্বাচন কমিটির সম্মুখে ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতি করে আট শিক্ষকের চাকরি নেওয়ার সত্যতা পায় কমিটি। এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
এরপর অধিদফতরের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে অভিযুক্ত চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের পৃথক চারটি মামলা দায়ের কপিও তাদের কার্যালয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত শুনানিসহ জেলা শিক্ষা অফিস থেকেও তাদের কৈফিয়ত তলব করে পৃথক পত্র পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২৮ নভেম্বর এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করে যমুনা টেলিভিশন। এতে জেলা জুড়েই তোলপাড় সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসনসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা। বিভিন্ন সময়ে বাবা ও নানাকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে ভুয়া সনদ দেখিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের ভাই-বোনসহ আটজন শিক্ষক।
পরে ভুয়া আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন গোবিন্দগঞ্জের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আজেদুর রহমান। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযোগ তদন্ত করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস। পরে অভিযুক্ত আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের এক বছরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সনদ জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়া শিক্ষকরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জের নূরে হাবিব ও তার বোন রাফিয়া মোর্শেদা, মাস্টার পাড়ার নুরনাহার বেগম, তার বোন গুল বাহার ও সুলতানা পারভিন, সোনাতলা গ্রামের মুন্নি খাতুন, গাড়ামারা গ্রামের আম্বিয়া খাতুন এবং ঘোষপাড়ার জেসমিন ওরফে কবিতা। এরমধ্যে নুরনাহার বেগম, তার বোন গুল বাহার ও সুলতানা পারভিন এবং ঘোষপাড়ার জেসমিন ওরফে কবিতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক।
এদিকে, অভিযুক্ত ওই ৮ শিক্ষক নিজেদের শিক্ষক পদে বহাল রাখতে তাদের বাবা ও নানাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের স্বীকৃতি নিতে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

সুত্রঃ যমুনা টিভি

  • শেয়ার করুন

সর্বশেষ খবর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com