মানবতা খুঁজবো কোথায় | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

মানবতা খুঁজবো কোথায়

মানবতা খুঁজবো কোথায়

কাজী খোরশেদ আলম
পৃথিবীতে মানবাধিকার সংগঠনের অভাব নেই। কিন্ত তারা কোন মানুষের অধিকার বাস্থবায়নের জন্য কাজ করে,তা বোধগম্য হচ্ছে না। মানবাধিকার বলতেই তো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মানুষের অধিকারকে বুঝায়; কিন্ত এখন দেখছি কোন বিশেষ বিশেষ ধর্মের ও জাতির জন্য মানবাধিকার শব্দটি উচ্চারিত হয়। আর যদি কোন মুসলিম সম্প্রদায় নির্যাতি হয় তাদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার শব্দটি ব্যবহৃত হয় না, ক্ষেত্রবিশেষে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ শব্দটি সহজে যুক্ত হয়ে যায়। অন্য কোন সম্প্রদায় বা ধর্মের লোকের হাজার অপরাধ করলেও তাদের ক্ষেত্রে কখনো সন্ত্রাসবাদ,জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ শব্দটি যুক্ত হয় না। অপরাধের ক্ষেত্রে সকল ধর্মের ও সম্প্রদায়ের লোকেরা সমান অপরাধি হওয়া উ”িত কিন্ত একটি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ঠুনকি অজুহাতেই চলে অভিযানের নামে হামলা হয়ে যায়; দিন-রাত বোমা হামলাসহ নৌ-পথে, আকাশ পথে ও স্থলপথে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো জোট বেঁধে আক্রমন করে। তার নজির ইরাক, আফগানসহ অনেক দেশেই দেখতে পেয়েছি। ইজরাইল অবাধে ফিলিস্তিনের মানুষদের হত্যা করছে-এখানে বিশ্ব বিবেক ও মানবতা নিরব রয়েছে। ইজরাইলের বিরুদ্ধে টু শব্দটুকু করে নি; বরং মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর।
মুসলিম হত্যায় আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলেও বিশ্ব বিবেকে কখনো সাড়া জাগে না। অপর দিকে একটি হিন্দু,বৌদ্ধ অথবা খ্রিষ্টান যদি কোন কারণে হত্যা হয় বা তাদের উপর হামলা হয় তখন শুরু হয়ে যায় সংখ্যা লঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ। দেশে বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রত্যেক হামলা ও হত্যা, নিষ্কন্টক ভাবে অপরাধ। এই অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠাকে সাধুবাদ জানাই কিন্ত মুসলিম নির্যাতনের ক্ষেত্রে যখন প্রতিবাদের প্রতিধ্বনী মুখ থুবরে পড়ে থাকে তখনই-বিবেককে কি বলে শান্তনা দেই। তাই বলতে হয়-নির্যাতি নিপিড়িত হত দরিদ্র মুসলিমদের জন্য মানবতা নেই; তারা বিশ্বের জন্য বোঝাস্বরূপ। নিষ্ঠুর প্রকৃতির মাঝে বসবাস করা তাদের অপরাধ। তাই তো যখন যেখানে যারা পারছে তারা কঁচু গাছের মতো তাদের ইচ্ছে মতো মুসলিম কতল করছে। তাদের অপরাধ একটি তারা মুসলিম।
পৃথিবীতে যত ধর্মের-ই আর্বিভাব হয়েছে, তার মধ্যে কোন ধর্মই মানুষ হত্যাকে স্বীকৃতি দেয় নি। প্রত্যেক ধর্ম-ই মানুষ ও মানবতার জয়গান গেয়েছে; অনেকে মানব সেবার মাঝেই ঈশ্বরের সন্ধান খুঁজে পেয়েছে।
তবে সত্যিকারের মানবতা কোথায় লুকিয়ে আছে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। বিশ্ব বিবেক ও বিশ্ব মানবতা কাদের জন্য নিহিত তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুসলিম ছাড়া যদি একটি বন্য পশুকেও হত্যা করা হয় তখনই মানবাধিকার সংগঠনের নেতা-নেত্রীদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। যার নজির আমরা দেখতে পেয়েছি বন্যার জলে ভেসে আসা ভারতীয় এক বন্য হাতির ক্ষেত্রে। বন্যার জলে ভেসে আসা বঙ্গ বাহাদুরকে নিয়ে কত-ই না হইচই হয়েছে। কিন্ত মায়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই। কোথাও তাদের স্থান নেই, ঠাঁই নেই। অথৈই পাথারে কত জন যে ভেসে ভেসে অচিনপুরে গিয়েছে বা সলিল সমাধি হয়েছে তার খুঁজ বা রাখে কে। নাফ নদীর এক পাশে মৃত্যুরপরী অপর পাড়ে রয়েছে বেড়ী। এভাবে চলছে রোহিঙ্গাদের জীবন তরী। নির্যাতনের মাত্রা দেখে মনে হয় মৃত্যু তাদের কাছে পরাজিত হয়েছে; নির্যাতিতদের কান্নার শব্দ মৃত্যু শুনে না-তাই, বিভিন্ন কৌশলে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইউটিউবের মাধ্যমে কয়েকটি চিত্র দেখে তা-ই মনে হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ্য নির্যাতিত ও নিপিড়িত একটি জাতি। যাদের জন্য কথা বলার মতো কেউ নেই। প্রথম চিত্রে যা দেখলাম তা হলো- একজন যুবককে উলঙ্গ করে হাত-পা একটি গাছে সাথে বেঁধে রেখে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বাঁশ দিয়ে তৈরি সুঁচালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করছে। আরেকটি চিত্র দেখতে পেলাম- চারজন যুবকের পা এক সাথে বেধেঁ শরীরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এবং চারদিকে দাঁিড়য়ে বিশ্বের অসভ্য বৌদ্ধরা তামাসা দেখছে ও কেউ কেউ তাদেরকে লাথি মেরে শিয়াল কুকুরের মতো হত্যা করছে। অপর একটি চিত্রে দেখতে পেলাম একজন যুবকের দুই হাতে ধরে বুকের উপর ক্রমান্বয়ে লাথি মেরে অজ্ঞান করে তার উপর একজন নারী নৃত্যতের স্টাইলে লাফি লাফিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে যায়। অপর একটি চিত্রে দেখতে পেলাম- একটি যুবতী মেয়েকে ধর্ষন করে তার শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করে জঙ্গলে ফেলে যায়। এভাবে হাজার হাজার চিত্র রয়েছে যেখানে নির্যাতনের মাত্রা বর্ননা করে শেষ করা যাবে না। তথ্য প্রযুক্তি মাধ্যমে সারা বিশ্ব এই নির্যাতনের চিত্র দেখতে পাওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। জাতিসংঘ নামে একটি সংগঠন থাকলেও তারা শুধু নামেই রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের ব্যাপারে কোন ভূমিকা নেওয়া হয়নি। আর মানবাধিকার সংগঠন গুলো তো মুখে খিল লাগিয়ে বসে আছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, তুরষ্ক, ইন্দোনেশিয়া জোড়ালো প্রতিবাদ জানালেও অন্য মুসলিম দেশগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন গুরুত্বারোপ করে নি।
রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতনে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলেও মানবতাবোধ জাগ্রত হয়নি। জাগ্রত হয়নি বিশ্ব বিবেক ও ক্ষমতাধর নেতা-নেত্রীদের মানষিকতা। তাদের একটি-ই অপরাধ তারা মুসলিম। তাই মানতবা শব্দটি তাদের জন্য প্রযোজ্য নহে। তারা মরবে, নির্যাতিত হবে, নদীর বুকে ভেসে বেড়াবে, গুলি খেয়ে মরবে, সাগরে ভেসে মরবে, বৌদ্ধদের খেলনার পাত্র হয়ে মরবে, নারীরা অবলীলায় ইজ্জত বির্সজন দিবে, ধর্ষিত হয়ে মরবে, যুবতীদেরকে অবলীলায় বৌদ্ধ যুবকরা ধর্ষন করবে,তাতে কার কি আসে যায়। আমরা তো দ্বিব্যি ভালো আছি। ভাল ভাবে চলছি। হায়-রে মানবতা, হায়-রে মানবাধিকার, তোমায় কোথায় খুঁজবো বল!

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com