বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস যেন দূর্নীতির আখড়া: নকল পিতা সাজিয়ে দলিল সম্পাদন | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস যেন দূর্নীতির আখড়া: নকল পিতা সাজিয়ে দলিল সম্পাদন

বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস যেন দূর্নীতির আখড়া: নকল পিতা সাজিয়ে দলিল সম্পাদন

৮৬ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল গফুর। তিনি এক বিবাহ করেছেন। কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা সদরের সুন্নিয়া ঈদগা সংলগ্ন মৃত টুক্কু মিয়ার ছেলে আঃ গফুর। তাদের বংশের একমাত্র প্রদীপ আঃ গফুরের ঔরষে তিন ছেলের জন্ম হয় কিন্ত তাদের বংশে কোন মেয়ে সন্তান নেই। আঃ গফুরের তিন সন্তানের মধ্যে বড় সুলতান আহম্মদ বাবা মায়ের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে সংসারের ব্যয়ভার বহ করে যাচ্ছে। অপর দিকে মেঝ ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও ছোট ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন ষড়ষন্ত্র করতে থাকে। মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মোঃ জসিম উদ্দিন বাবা মায়ের কোন খোঁজ-খবর নেয় না। বয়ঃবৃদ্ধ আব্দুল গফুর ও তার স্ত্রী সাফিয়া খাতুন একান্ত বাধ্য হয়ে বড় ছেলে সুলতান আহাম্মদের সরনাপন্ন হওয়ায় মেঝ ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও ছোট ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন প্রতিহিংস্বাবশত কটু কৌশল অবলম্বন করে। বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের মোহাম্মদ হোসেন (মুহুরী সদন নং-৮) এবং সাব-রেজিষ্ট্রার জেড এম ইমরান আলী ও স্থানীয় কবির হোসেনের সাথে যোগসাজসে ২০১৫ ইং সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নকল পিতা সাজিয়ে আবদুল গফুরের ভিটে, বাড়ী ও নাল জমিসহ ২১৬ শতক ভুমি জাল দলিলের মাধ্যমে হস্তগত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারী আবদুল গফুর জানান, তার স্ত্রী সাফিয়া খাতুন মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে যায়। তখন টাকা পয়সার কোন বিহিত ব্যবস্থা না থাকায় এবং ছেলেদের কাছ থেকে কোন সহযোগীতার আশ্বাস না পেয়ে; কোন উপায়ন্তর না পেয়ে নিজস্ব সম্পত্তি থেকে ১৮ শতক জমি বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এই খবর জানতে পেরে মেঝ ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও ছোট ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন, জগতপুর গ্রামের সুলতান আহাম্মদের ছেলে মোঃ জিল্লুর রহমান, একই গ্রামের মৃত জুনাব আলীর ছেলে কবির, কালিকাপুর গ্রামের মৃত লোছমত আলীর ছেলে এবং বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লিখক সনদ নং-৮ মোঃ হোসেন,বুড়িচং সাব রেজিষ্ট্রার জেড এম ইমরান আলী যোগসাজসে বুড়িচং শপিং সেন্টারে অন্য একজন লোককে আবদুল গফুর সাজিয়ে কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাগে নাল, বাড়ী, পুকুর ও ভিটিহর মোট ২১৬ শতক জমি যার মূল্য ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জাল দলিলের মাধ্যমে হস্তগত করে যার ক্রমিক নং ৫৪৫৬ বই নং-০১ দলিল নং ৫৪৬০। পরবর্তীতে ২০১৫ ইং সালের ৮ অক্টোবর উক্ত দলিলের নকল উত্তোলন করে ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ইং সালে কুমিল্লার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে (আবেদন নং-১৭৭/২০১৫) এর মাধ্যমে দলিল বাতিলের জন্য আবেদন করি। পরবর্তীতে ২০১৬ ইং সালের ২২ মে বিজ্ঞ কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের যুগ্ম জেলা জজ মোহাম্মদ ফারুক কর্তৃক বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা সূত্রে বিনা খরচে ডিক্রী হয় এবং নালিশী ১ম(ক) তপছিল বর্ণিত ভূমি সম্পর্কিত ১ম তপছিল বর্ণিত দলিল জাল, যোগাযোগী, বানোয়াট এবং নালিশী ১ম(ক) তপছিল বর্ণিত ভূমিতে বাদীর খরিদা রায়তি ঘোষান করেন। এই রায়ের ফলে আবদুল গফুর তার হারানো জমি ফেরত পেয়েছেন এবং ৫৪৬০ নং দলিলটি বাতিল করা হয়। এছাড়া মেঝ ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও ছোট ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান ও তাদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হবে অন্যাথায় যে কোন সময় সন্ত্রাসবাহিনী দিয়ে মেরে ফেলে রাখবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ হোসেন মুহুরী (সনদ নং-৮) বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাথে যোগসাজসে নকল ও জাল দলিল করার বানিজ্যি করছে। তিনি টাকার বিনিময়ে জাল দলিল করে দেওয়ার উস্তাদ।
তাদের সাথে আরো কিছু মহুরি রয়েছে যারা বিভন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাতা-রাতি বাড়ির মালিক বনে গেছেন। নাল জমিকে ডোবা, বাড়িকে নাল জমি, সাফকবলা দলিলকে হেবা ও দানপত্র দলিল করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরোও জানা যায, বুড়িচং রেজিষ্ট্রি অফিসের সাথে সম্পৃক্ত একটি সক্রিয় জাল দলিলের সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময় প্রকৃত মালিককে অসুস্থ দেখিয়ে এবং অন্য একজনকে মালিক সাজিয়ে কমিশনের মাধ্যমে কোন ভাড়া বাসায় বসে মোটা অংকের বিনিময়ে দলিলের কাজ সম্পাদন করে থাকে।
তাছাড়া বুড়িচং সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল দাতা ও গ্রহীতারা দলিল রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করতে গেলে টিপ সহিসই নেওয়ার সময় টিপসই গ্রহনকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০/১০০ টাকা করে নিয়ে থাকে।
এই ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, এটা নিয়ম। কিন্ত এই নিয়ম-কানুন কে তৈরি করে বা চালু করেছে তা বলতে রাজি নয়। বাধ্যতামূলক তাদের দিতে হয়। সাধারণ মানুষ তাদের এহেন কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করার সাহস করে না হাজার হাজার টাকা যেখানে খরচ হয়ে যায় সেখানে অল্প কিছু টাকার জন্য প্রতিবাদ করে না।
নকল উঠানো ও তল্লাসী করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ভোগান্তির অন্ত থাকে না। অতিরিক্ত টাকা প্রদান করেও দিনে পর দিন ঘুরতে হয় বলে ভোক্তভোগিরা জানিয়েছে।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com