বুড়িচংয়ে সেটেলমেন্ট অফিসে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

বুড়িচংয়ে সেটেলমেন্ট অফিসে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আবদুল আউয়াল ঢালী উত্তর বিজয়পুর মৌজাসহ উপজেলার বিভিন্ন মৌজার প্রিন্টের খতিয়ান বিতরনে সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে ৩/৫শত টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ ১যুগের অধিক সময় বুড়িচং উপজেলার সেটেলমেন্টে অফিসের পেশকার হিসেবে কর্মরত থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খতিয়ান ও ম্যাপ বিলি এবং নাম সংশোধনী, ৩০ ধারা, ৩১ ধারার নথিপত্র সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজের এলাকায় গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন। এছাড়া তিনি অত্র অফিসের একজন পিয়নসহ আরোও ৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বুড়িচং উপজেলায় কর্মরত থাকালেও বিভিন্ন ডিপুটেশনের অজুহাতে বছরের পর বছর অফিসে হাজির না থেকেও বেতনভাতাদি উত্তোলন করে যাচ্চে। অন্যদিকে কর্মচারী ঢালী এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং গন্যমান্য লোকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক স্থাপন করে সূ-কৌশলে সাধারন মানুষ থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারী নির্ধারিত ফিয়ের অতিরিক্ত আদায় করেছে। সম্প্রতি বুড়িচং উপজেলার উত্তর বিজয়পুর মৌজার প্রিন্টের বিএস খতিয়ান ও ম্যাপ সরবরাহ করা কালীন সময় ৩শ থেকে ৫শ টাকা এবং ম্যাপ সরবরাহে ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে। অন্যদিকে যাদের থেকে টাকা নেওযার সুযোগ থাকে না তাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে ম্যাপ নেই বলে বিদায় করে দেয়। এছাড়া সেলেটমেন্ট অফিসের প্রিন্টের খতিয়ানে মৌজার নাম, প্রজার নাম, দাগ পরিমানে কাটা ছেড়া ভুল ইচ্ছাকৃত ভাবে রেখেছে। যাহা প্রিন্ট খতিয়ান প্রজার নিকট সরবরাহ করার পুর্বে মাঠ খতিয়ানের সাথে প্রিন্ট খতিয়ানের মিল না থাকার বিষয়টি জনমনে প্রবাদ রয়েছে যে, সেলেটমেন্ট অফিসে ভুলের জন্য দুর্নীতির সূকৌল অবলম্বন করে হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।
বুড়িচং গ্রামের এলাহী জানান, আবদুল আউয়াল ঢালীর কাছ থেকে উত্তর বিজয়পুর মৌজার অধীনে প্রিন্টের খতিয়ান আনার জন্য গেলে তিনি প্রত্যেক খতিয়ানের জন্য ৪শত টাকা করে নেন। প্রিন্টের ম্যাপের জন্য নিয়েছেন ১ হাজার ২শত টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আবদুল আউয়াল ঢালী দীর্ঘ দিন যাবৎ একই অফিস কর্মরত থাকা বিভিন্ন শ্রেণীর দালালদের সাথে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক গড়ে তুলে। দালালদের মাধ্যমে খতিয়ানের রমরমা বাণিজ্যে করছে। ঢালীর সহযোগীতায় এক শ্রেনীর দালাল চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এই ব্যাপারে স্থাণীয় জনগন দুর্নীতির অভিযোগে যোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা কুমিল্লার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার আবদুল আউয়াল ঢালীর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন অতিরিক্ত টাকা গ্রাহকদেরকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যাপারে সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তা কর্তৃক আচরণ বিধি লঙ্গনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি দাবী করছে এলাকাবাসী।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com