বুড়িচংয়ে মাদরাসার ছাত্রী শিল্পী হত্যায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

বুড়িচংয়ে মাদরাসার ছাত্রী শিল্পী হত্যায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের

বুড়িচংয়ে মাদরাসার ছাত্রী শিল্পী হত্যায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর এস এম দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী শিল্পী আক্তার (১৪) হত্যা করার দায়ে তার পিতা কাজী আবুল কাশেম (৬০) বাদী হয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে ৩ জন নামীয় ও আজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে ৪ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়,রাজাপুর গ্রামের কাজী আবুল কাশেম ও রাজাপুর এস এম দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী শিল্পী আক্তার মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত ও কু-প্রস্তাব দিত। শিল্পী আক্তার তার মা আয়শা বেগমকে ঘটনার বিষয়ে বলত। শিল্পী আক্তারের পিতা কাজী আবুল কাশেম ও মা আয়েশা বেগম রাজাপুর গ্রামের ষ্টেশন সংলগ্ন টুন্ডা রশিদের ছেলে রবিউল কসাই প্রকাশ রবু বাড়ীতে গিয়ে টুন্ডা রশিদকে তার মেয়ে শিল্পী আক্তারকে উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে অবহিত করেন। তার জের ধরে গত ১৬ আগষ্ট রবিউল কসাই ও নবীউলসহ আরোও কয়েক জনকে নিয়ে নিহত শিল্পী আক্তারের বাড়ীতে গিয়ে তার মা আয়েশা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং মেয়েকে সব সময় উক্ত্যক্ত করবে ও তাকে হত্যা করে ফেলবে। তার পর গত ১৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে শিল্পী আক্তারকে হত্যা করে বাড়ীর পুর্ব পাশে একটি একাশি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। ১৯ আগষ্ট শুক্রবার ভোর ৬টায় কাজী আবুল কাশেমের স্ত্রী আয়শা বেগম অযু করতে গিয়ে শিল্পী আক্তারকে পুকুর পাড় একাশি গাছের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তার স্বামী কাজী আবুল কাশেমকে ডাক দিলে তিনিও তার মেয়েকে গাছের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। নিহত শিল্পী আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচরের দাগ ও কাদামাটি দেখে তাদের ধারনা হয় পূর্বপলিকল্পিমত ভাবে আসামীরা একত্রিভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। মামলা নং- সিআর ৩১৩/১৬।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কাজী আবুল কাসেমের মেয়ে ও রাজাপুর এস এম আর্দশ দাখিল মাদরাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী শিল্পী আক্তার (১৪) গত ১৯ আগষ্ট রাতে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের ছোট একটি একাশি গাছের সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে বুড়িচং থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে। শিল্পী আক্তারের মৃতু নিয়ে রাজাপুর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আছে। কেউ বলছে হত্যা আবার কেউ বলছে আত্মহত্যা।
নিহত শিল্পী আক্তারের বাবা কাজী আবুল কাশেম জানান, গত ১৯ আগষ্ট রাত অনুমান ১টা ৩০ মিনিটের সময় রাজাপুর পশ্চিমপাড়ার মৃত জাফর আলীর ছেলে নবীউল হোসেন (৩০) এবং রাজাপুর পূর্ব পাড়া স্টেশন সংলগ্ন রশিদ উরফে টুন্ডা রশিদের ছেলে রবিউল কসাই প্রকাশ রবু (৩০) কে বাড়ীর পাশে দেখতে পাই। পরবর্তীতে আমি বাড়ীর পাশে খালের ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরতে থাকি। সকাল বেলায় আমার ভাগনি জামাই আমাকে ডেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেয়। দৌড়ে বাড়ীতে এসে দেখি আমার মেয়ে শিল্পী একাশি গাছে ঝুলে আছে। তার দেহে মাটি লেগে আছে। তিনি আরোও জানান, ১৭ আগষ্ট রবিউল ও নবির হুমকি দিয়ে বলেছে তাকে অথবা তার মেয়েকে হত্যা করবে। তারাই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।
মামলা দায়ের করা পর থেকে ১নং আসামী রবিউল কসাই প্রকাশ রবু ও ২নং আসামী নবীউল ইসলাম পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরোও জানা যায়, শিল্পী হত্যার প্রধান আসামী রবিউল কসাই প্রকাশ রবু সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। যে কোন সময় সে দেশের বাহিরে পালিয়ে যেতে পারে। রবিউল কসাই প্রকাশ রবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিল্পী হত্যার মূলরহস্য উদঘাটন হবে। রবিউল কসাই প্রকাশ রবু প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রতিনিয়তই হুমকির মুখে রয়েছে মামলার বাদী কাজী আবুল কাশেম।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com