বুড়িচংয়ে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

বুড়িচংয়ে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

বুড়িচংয়ে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে সীমাহীন  দুর্ভোগ

কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ঘটিত। বুড়িচং -কালিকাপু-থানা সড়ক,বাকশীমূল চৌমুহনী -পিতাম্বর সড়ক,বুড়িচং – রাজাপুর- শংকুচাইল সড়কসহ একটি ব্রীজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভেঙ্গে আছে ,রাজাপুর স্কুল হতে পাইকোটা সড়ক,ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার স্কুল সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিনত হয়েছে। এতে যানজট, গাড়ী ও মানুষ চলাচলের সীমাহীন দূর্ভোগ এবং দূর্ঘটনার ঝুকি হয়ে পড়েছে। জনসাধারন যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এই সব সড়কে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়ে বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জনসাধারনের চলাচলের প্রায় সকল গ্রামের পাকা সড়ক গুলো কার্পেটিং, পিচ এবং কংক্রিট উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টির হয়েছে। আর সে সমস্ত কাচা রাস্তার সে গুলোর আরো নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এই সব সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখানে অসংখ্য মানুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে।
বাকশীমূল গ্রামের জনসাধারণ ও আলী স’মিল এর মালিক মো:সেলিম ও এই গ্রামের কানু মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়,এবারের কোরবানি ঈদের দিন রাতে মোক্তল হোসাইন মেমোরিয়্যাল একাডেমি সাথে বাকশীমূল টু পিতাম্বর সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে একটি সিএনজি যাত্রী সহ পুকুরে পড়ে যায় অল্পের জন্য ওই যাত্রীরা বেঁচে যায় এবং সারারাত এখানেই আটকিয়ে ছিল। সকালে সিএনজি’কে স্থানীয়া উদ্ধার করে দেন।পরের দিন আরো একটি গাড়ী পড়ে যায় এই ভাবেই প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখতে হচ্ছে, আরো জানা যায় এই সড়কটি প্রায় ১০বছর ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি ।এ দিকে থানা সড়কটিও এমন করুণ দশা।


বুড়িচং -জইরুন- রাজাপুর সড়কে চলাচলরত জাতীয় দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মেহেদী হাসান বাবু জানান, আমি ঢাকা থেকে এসে বাড়িতে যাওয়ার জন্য এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি,চলাচল করতে অনেক কষ্ট পেতে হয়। এতে আমার মতো পথচারীরা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। আমি এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানাই।
রাজাপুর -থেকে শংকুচাইল সড়কটি বেহাল দশা।এ সড়কে যাতায়াতকারী বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন জানান,আমি এই সড়ক দিয়ে প্রায় সময় শংকুচাইল যাতায়াত করি এখানে একটি ব্রীজ অনেকদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে একটি সাইট দিয়ে ছোট ছোট গাড়ী চলাচল করে। এতে যে কোনো সময় বড় গাড়ী আসলেই বড় ধরনের দূর্ঘটনা হতে পারে। আমি এই সড়ক এবং ব্রীজটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানাই।একই উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ন ভরাসার স্কুল ও ষোলনল সড়কটিও এমন করুণ দশা।
এ দিকে কোরবানি ঈদের প্রায় দুই মাস আগে বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ঠিকাদারের কাছে বাকশীমূল চৌমুহনী হইতে পিতাম্বর পর্যন্ত সড়কটি বেহাল দশা সম্পর্কে করণীয় জানতে চাইলে তিনি জানান,এই সড়কটি টেন্ডার হয়ে আছে শীঘ্রই সংস্কার করা হবে। তবে ঈদ থেকে এই পর্যন্ত কোনো স্থানে কাজ করা হয়নি।
সর্বোপরি একালাবাসীর একটাই দাবী,আমরা এইসব সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকি। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও কোনো গাড়ী নিতে পারি না। এতে আমরা বাজারে বা কোনো কাজে এবং আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে হেঁটে যেতে হয়। প্রতিদিন এই ভাবে কষ্ট পেতে হয় এবং সময় অপচয় হয়। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জানান,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন এল.জি.ই.ডি এর আওতাধীন রামপুর সড়ক,বাকশীমূল সড়ক,কালিকাপুর ও শংকুচাইল সড়কটি পুনঃনির্মানের জন্য অনুমোদন হয়েছে।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com