পদ্মা সেতুর কাজ বাকি আর মাত্র সাড়ে ৪ ভাগ

পদ্মা সেতুর কাজ বাকি আর মাত্র সাড়ে ৪ ভাগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। এর মধ্যে গত ৩১ ই ডিসেম্বর আকস্মিক সেতুর অগ্রগতিও পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সেতুতে কয়েক কিলোমিটার মিটার এলাকা ঘুরে দেখেছেন সহোদরা শেখ রেহানাকে নিয়ে। এদিকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজ এগিয়েছে ৮৯.৫০ শতাংশ । আর মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ মূল সেতুর কাজের আর বাকি মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ।

সোমবার (৩ জানুয়ারি ) পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সেতুর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সর্বমোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ৬৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা মোট বাজেটের ৮৮.২৯ শতাংশ। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯২.৭৬ শতাংশ বা প্রায় ১১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এদিকে সেতু প্রকল্পের আওতায় নদী শাসনের কাজের অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৮৭ শতাংশ। নদী শাসন কাজের চুক্তিমূল্য আট হাজার ৯৭২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৪৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এছাড়া, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ চার হাজার ৩৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অন্যান্য (পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা, ভ্যাট ও আয়কর, যানবাহন, বেতন ও ভাতাদি এবং অন্যান্য) খাতে বরাদ্দ দুই হাজার ৮৮৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

প্রকৌশল বিভাগ আরও জানায়, মূল সেতুর মধ্যে দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব ও ২হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব পাঁচ হাজার ৮৩৪ টি শেয়ার পকেট সবগুলো বসানো হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরার ভায়াডাক্টে মোট ৪৩৮ টি সুপারটি গার্ডার, মোট ৮৪ রেলওয়ে আই গার্ডারও স্থাপন করা হয়েছে। মূল সেতুর মোট ৪১টি ট্রাস রয়েছে, যার সবগুলো ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ১৫০ মিটার বা ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।


বর্তমানে সেতুর শেষ পর্যায়ে কার্পেটিং, গ্যাস পাইপলাইন ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন, মুভমেন্ট জয়েন্ট ও রেলিং তৈরির কাজ চলছে। সেতুর অবশিষ্ট কাজের মধ্যে ওয়াটার প্রুফিং মেমব্রিন এর কাজ ১৩.৪১ ভাগ, ভায়াডাক্ট কার্পেটিং ৮.৯৪ ভাগ, মূল সেতুর কার্পেটিং ২.০৫ ভাগ, ভায়াডাক্ট মুভমেন্ট জয়েন্ট ৯১ভাগ, মূল সেতুর মুভমেন্ট জয়েন্ট-৯০ভাগ, ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ ১৯.৫৪ ভাগ কাজ এগিয়েছে।


এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম রেলিংয়ের কাজ শুরু হচ্ছে। সেতুতে গ্যাস পাইপ লাইন ৭১.৮৫ ভাগ এবং সেতু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ৪০০ কেভিএ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ ৬৮ ভাগ কাজ এগিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মোঃ আব্দুল কাদের আরও জানান, আগামী জুন মাসে সেতুতে যানবাহন চালু করার লক্ষ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেই সেতুর সকল কাজ চলছে।/এসএইচ

সুত্রঃ যমুনা টিভি

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com