নৌকার প্রার্থী পেলেন ৫৬ ভোট!

নৌকার প্রার্থী পেলেন ৫৬ ভোট!

বেসরকারি ফলাফল শিট।

ফরিদপুর প্রতিনিধি: পঞ্চম দফায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের সদরপুর উপজেলার চর মানাইর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ৫৬টি। এ ইউনিয়নের মোট ভোটার ১১৬৮৫। এর মধ্যে এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৯৮৭৯ জন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন প্রার্থীর ভোট যুদ্ধে অংশ নেন। ৫৬ ভোট পাওয়া নৌকার প্রতীকের প্রার্থী হলেন মো. বজলু মাতুব্বর। এ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, তিনি পেয়েছেন ৩৩০০ ভোট । স্থানীয় সূত্র আরো জানায় নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬ ভোট পাওয়া মো. বজলু মাতুব্বর আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহ গ্রুপের অপরদিকে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সাংসদ নিক্সন চৌধুরী গ্রুপের। নৌকা প্রার্থীর এত কম ভোট পাওয়া নিয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি থাকার পরও কি কারণে নৌকার প্রার্থী এত কম ভোট পেলেন, তা খতিয়ে দেখবে জেলা উপজেলার নেতারা। এ বিষয়ে নৌকার পরাজিত প্রার্থী বজলু মাতুব্বর জানিয়েছেন, আমি নৌকা প্রতীক পেলেও তার পক্ষে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়া তো দূরে থাক, কোনো ধরনের সহযোগিতাও করেননি। এমনকি কোন খোঁজ-খবরও রাখেননি। আওয়ামী লীগের নেতারা কাজ করেছেন নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। প্রতীকের জন্যও তারা কেউ ভাবেননি। এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আবুল বাশার জানান, ফরিদপুর ৪ আসনের তিন উপজেলা ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের সব গুলো ইউনিয়নেই নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহ সাহেব তার একক পছন্দে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের কোনো মতামত তিনি নেননি। অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন যাদের অনেককে স্থানীয় ভোটারার চেনেও না। সদরপুর ইউনিয়নে এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন যে কিনা নৌকা প্রতীক পেয়েও মনোনয়ন জমা দেননি। নৌকার এই পরাজয়ের কারন বড় ওই নেতার এক গুঁয়েমির কারণেই হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ছত্তার ফকির বলেন, দলীয় মনোনয়েন দেয়ার সময় অবশ্যই স্থানীয়ভাবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও জনগণের সাথে কতটুকু সম্পর্ক আছে তা খোঁজ নেয়া দরকার। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, জনগণ যদি ভোট না দেয়, তাহলে কি করার। তাছাড়া এটা নৌকার পরাজয় নয়, এটা প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরাজয়। প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ না থাকলে, প্রার্থীর কোনো সমস্যার কারণে মানুষ ভোট না দিলে কি করার আছে। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে। আমরা দলীয়ভাবে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।/এসএইচ

সুত্রঃ যমুনা টিভি

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com