বুড়িচং প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুর্নীতির অভয়ারণ্য | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

বুড়িচং প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুর্নীতির অভয়ারণ্য

বুড়িচং প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুর্নীতির অভয়ারণ্য

🔵 মোহাম্মদ সাখাওয়াত হাফিজ,,

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় শিক্ষা অফিস কর্তৃক উন্নয়নের বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন খাতের টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্তৃক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত,রুটিন মেনটিনেন্স, স্লিপ কার্যক্রম ও প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর জন্য লিখন শিখানো কার্যক্রম বাবদ বুড়িচং উপজেলার ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার ৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বিভিন্ন মোটা অংকের বরাদ্ধ অনুমোদন করা হয়।
উক্ত অনুমোদিত টাকা ৩০শে স্ব-স্ব উপজেলা কর্তৃক উত্তোলন করে শিক্ষা অফিসার নিজের একাউন্টে হস্তান্তর করে রেখে নিজ ইচ্ছায় পরবর্তীতে স্কুল কমিটি এবং প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী টাকা বরাদ্ধপত্র প্রদান করে নিজেরাই হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। ফলে বুড়িচং ব্রাহ্মনপাড়া বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা খরচের শিক্ষা অফিস কর্তৃক বিভিন্ন খেলনার দ্রব্যাদি খরিদ করে। এতেও টাকা অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র মেরামত কাজে বরাদ্ধের অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করেছে। বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ৫০-৭০ হাজার টাকা স্লিপ বরাদ্ধ থেকে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় ২০ হাজার টাকা প্রতিটি বায়োমেট্রিক হাজির মেশিন ক্রয় করে উক্ত মেশিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাবিব কম্পিউটার কান্দিরপাড় কুমিল্লা কর্তৃক সরবরাহ করা হয়। যাহার মডেল নং তকঞ, ক৪০ যাহার প্রস্তুত কারক দেশ চায়না। উক্ত যন্ত্রটি অত্যান্ত নিন্মমানের। ১ বছরের গ্যারান্টি দেওয়া হলেও অধিকাংশ মেশিনই অচল। একের অধিকবার চাপ প্রদান করলে মেশিনটি সচল হয়। কোথাও আবার অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রকৃত ভাবে উক্ত মেশিনটির অনুসন্ধানে জানা যায় এবং ওয়েব সাইটে তার মূল্য তালিকা থেকে জানা যায় তার প্রকৃত মূল্য ৪ হাজার ৮শত টাকা। এছাড়া কুমিল্লা জেলা সদর থেকে বেসরকারী স্কুল কলেজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রধানগণ একই মডেলের মেশিন ৭ হাজার টাকায় ক্রয় করেছে। ফলে মেশিনে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় ১২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা মেশিন ক্রয় বাবদ শিক্ষা অফিসার সেলিম মুন্সী তার অফিস সহকারীর মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে অতিরিক্ত সংগ্রহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বেগম নিজেই ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই বিষয়ে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া সিদ্দিকা বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের বরাদ্ধকৃত টাকার আয়-ব্যয় হিসাব উপজেলা শিক্ষা অফিসারে দায়িত্বে রয়েছে এবং এছাড়া দুর্নীতির বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের হাতে।
বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বেগমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি এই বিষযে কোন প্রকার তথ্য দিতে পারব না।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান এই বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা) এবং জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদেরকে পাওয়া না যাওয়া পরবর্তীতে শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক অর্থ এইচ এম আবুল বাশারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com