টাকার নোটে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস

টাকার নোটে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
টাকার নোটে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরনো নোটের চেয়ে নতুন নোটে এটা বেশি- এমনই দাবি করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা বলেন, টাকার নোটের ৭ শতাংশ নমুনায় করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। গত সোমবার যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলার অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের ব্যাংকনোটে করোনাভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতির বিষয়ে এক গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে বলেন, আমাদের গবেষক দল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক নোটে ভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতি পেয়েছেন। গবেষক দল ব্যাংক নোটে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাসের এন-জিনের উপস্থিতি এবং ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওআরএফ জিনের স্থায়িত্ব শনাক্ত করতে পেরেছেন। এই গবেষণাপত্রটি ইতোমধ্যেই একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা নোটে করোনার আরএনএর উপস্থিতি পায় আমাদের গবেষকরা। গত বছরের আগস্টে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এই সিকোয়েন্সিং তথ্য জিআইএসএইডে আপলোড করা হয় গত ১৮ অক্টোবর। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল টাকায় আরএনএর উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য সাবমিট করা হয় যবিপ্রবির সিকোয়েন্সিং ল্যাব থেকে।
গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইড) জার্মান সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে করোনাভাইরাসের সবধরনের জিনোম সিকুয়েন্সের তথ্য জমা রাখা হয়। এখান থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি সিকোয়েন্স জমা পড়েছে টাকায় আরএনএর উপস্থিতি সংক্রান্ত। এর মাঝে অধিকাংশই যশোর জেলা থেকে সংগ্রহ করা নোট।
গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই সব নোট সংগ্রহ করা হয়। যবিপ্রবির অনুজীব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার জানান, গত ৫ আগস্ট ১০ টাকার নোট সংগ্রহ করা হয় খুলনার ময়লাপোতার একটি মুদি দোকান থেকে। ওই নোটে প্রথম করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর যশোর দড়াটানা এলাকার একটি স্টেশনারি দোকান থেকে ১৬ আগস্ট সংগ্রহ করা হয় ১০০ টাকার নোট। ওই নোটেও পাওয়া যায় করোনার উপস্থিতি। এগুলোর ডাটা জিআইএসএইডে সাবমিট করা হয় ১৮ অক্টোবর। পরে ২৩ আগস্ট যশোরের রেস্টুরেন্ট ও গণপরিবহন থেকে সংগ্রহ করা তিনটি ১০ টাকার নোটে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরমধ্যে একটির ডাটা জিআইএসএইডে ১৮ অক্টোবর সাবমিট করা হলেও অন্য দুইটির ক্ষেত্রে ডাটা সাবমিট করা হয় ২০২১ সালের ৩ মার্চ ও ২৩ এপ্রিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা আরেকটি বিষয় দেখেছি এ সময়ে। নতুন ব্যাংক নোটের চাইতে পুরাতন ব্যাংক নোটে ভাইরাস কম টিকে থাকে। তবে কতটা সংক্রমণ ছড়াতে পারে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আমরা শুধুমাত্র দেখিয়েছি যে টাকাতেও করোনার উপস্থিতি থাকতে পারে। ব্যাংক নোটে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাসের এন-জিনের উপস্থিতি এবং ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওআরএফ জিনের স্থায়িত্ব শনাক্ত করতে পেরেছি আমরা।

সুত্রঃ যমুনা টিভি

  • শেয়ার করুন

সর্বশেষ খবর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com