জোড়া লাগলো ছিঁড়ে যাওয়া সুতো! | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

জোড়া লাগলো ছিঁড়ে যাওয়া সুতো!

জোড়া লাগলো ছিঁড়ে যাওয়া সুতো!

সময়টা ১৯৪৮ সাল। বাংলাদেশ থেকে সূদুর মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে ছিলেন আব্দুস সামাদ। তখন থেকে মালয়েশিয়ায়ি থেকে যান তিনি। বিয়ে করেন মালয়েশিয়ান মেয়েকে। বউ নিয়ে বাংলাদেশেও এসেছিলো আব্দুস সামাদ। স্ত্রী রান্না করেছেন মাটির চুলাতেও। বাংলাদেশীদের আতিথেয়তায় বাঙ্গালীদের ভালবেসে ফেলেন সামাদের স্ত্রী। তার কাছে বাঙ্গালী মানেই ভাল মানুষ। আব্দুস সামাদ মারা যান ১৯৯৪ সালে। এরপর বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল সামাদের স্ত্রীর।

তবে ২০১৬ সালের ৫ই আগষ্ট দিনটি হতে পারে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের একটি আত্মার সম্পর্ক তৈরির তারিখ। এদিন বিয়ের পিরিতে বসেছেন বাংলাদেশী মেয়ে ফারজানা আক্তার পান্না এবং মালয়েশিয়ান ছেলে মোহাম্মদ সাফোয়ান।

পান্নার বাবা নুর মিয়া বছর ১৫ আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ থেকে চলে যান মালয়েশিয়া। সেখানে সম্পর্ক হয় আব্দুস সামাদের সন্তান আব্দুল হাসিমের সাথে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে সম্পর্ক গভীর হয়। আব্দুল হাসিম একদিন নিজের ছেলের জন্য বাংলাদেশী মেয়ে বিয়ে করানোর কথা প্রকাশ করে। সহযোগীতা চায় তার। এর মধ্যে বছর দুই আগে স্ব-পরিবারে মালয়েশিয়াতেই বসবাস শুরু করে নূর মিয়া। আব্দুল হাসিমের আগ্রহের কথা জেনে নিজের মেয়েকেই বিয়ে দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। হাসিম প্রস্তাব পেয়ে দারুন খুশি হয়। পুরোনো ভাঙ্গা সম্পর্কটাকে আবার জোড়া লাগানোর সুযোগটা আর হাত ছাড়া করেন নি।

মহা ধুমাধাম করে মালয়েশিয়ান সকল রীতি মেনে বিয়ে হয় আব্দুস সামাদের ছেলে আর নুর মিয়ার মেয়ে। মেয়েকে মালয়েশিয়ার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে পেরে দারুন খুশি তিনি।

তিনি বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমকে বলেন, “যেহেতু তাদের সাথে আমাদের একটা পুরোনো সম্পর্ক ছিল। সেহেতু এখানে বিয়ে দিয়ে সম্পর্কটাকে আবার মজবুত করতে পেরেছি।” তিনি সবার কাছে নিজের মেয়ে এবং মেয়ের জামাইয়ের সংসারের সুখের জন্য দোয়া চান।

এ বিষয়ে আব্দুল হাসিম বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভকে বলেন, “আমার ছেলের জন‌্য বাংলাদেশী মেয়েকে বউ করতে পেরে দারুন খুশি। আমার বাবা একজন বাংলাদেশী ছিল। ”

বিয়ের অনুষ্ঠানে আয়োজনের কোন কমতি ছিল না। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি কম থাকলে আব্দুস হাসিমের অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। মালয়েশিয়ার রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর স্ত্রী ৩ মাসের মতো শশুর বাড়িতে থাকে। এর পর ছেলে এবং ছেলের বউকে আলাদা করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশী নুর মিয়ার বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে খুব কাছেই পুচং নামক জায়গায় এই বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com