https://ekusheybangla.com/wp-content/themes/e2018/assets/images/news/lazy-load-img.jpg

জীবন চলার পথে কিছু পাথেয়

হোসেন শাহনেওয়াজ :
মানুষ একা একা থাকতে পারেনা।তাই সে পরিবার ও সমাজ নিয়ে বসবাস করে।আর এই পরিবার ও সমাজ নিয়ে বসবাস করতে যেয়ে তাকে অনেক রকম পরিস্থিতির মধ‍্যে পড়তে হয়। এই সমাজে কেউ কেউ জীবনে সফল হয় আবার কেউ বা অসফল হয়।আবার কেউ আছে বিনা দোষে বেইজ্জত হয়।পরিবার সমাজে বসবাস করা মানুষের আচার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে আমার এই লেখা।
এই লেখাতে কেউ কেউ হয়তো আঘাত পেতে পারেন।কাউকে আঘাত দেয়ার জন‍্য এই লেখা নয়। মাথা খাটিয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।আজেবাজে জিনিস নিয়ে মেতে থাকার জন‍্য মানুষের জীবন নয়।মানুষ হচ্ছে মহান স্রষ্ঠার সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এদের দ্বারা যেন ভালো কিছু সৃষ্টি হয় তার জন‍্যই পৃথিবীতে প্রেরন করা হয়েছে।মানুষ হলো টাকার মতো।ভালো কাজে খাটালে তিন গুন হয়ে ফিরে আসে।বেঁচে থাকা খুব সহজ নয়।দারুন শক্ত।অনেকে বলে পরিবার সমাজে নারীর জন‍্যই অশান্তি হয়।তাই এদের কাছ থেকে দূরে থাকা ভালো।নারীরা ছলনাময়ী পাশাপাশি নির্বোধ।তাই তাদের কাছে কোন গোপন কথা বলা উচিত নয়।নারীদের কারনে পূরুষেরা অবৈধ‍্য ও অনৈতিক কাজ করে।সংসার জীবনে তাদের নিজস্ব টাকা,ধন সম্পদ ব‍্যবহার না করাই ভালো।তাদেরকে অবাধ স্বাধীনতা না দেয়া ভালো।কিন্ত তাদেরকে ভালোবাসা ও সাহায‍্য সহযোগিতা করতে হবে।পাশাপাশি তাদেরকে শাসনও করতে হবে।সংসারে শান্তি ও তাদেরকে ভালোবাসার কারনে তাদের সব কথা মত চললে যেখানে সেখানে লান্ছিত ও অপমানিত হতে হবে। স্ত্রীর বাপের বাড়ীর লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে।তাদের বিপদ আপদে সাহায‍্য করতে হবে।কিন্তু তাদের সঙ্গে বেশী ঘনিষ্ট হওয়া চলবেনা এবং সাহায‍্যের জন‍্য তাদের কাছ থেকে প্রতিদান আশা করতে হবে না।না হলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হবে।এ ছাড়াও বেইজ্জৎ ও অপমানিত হতে হবে।
সংসার হলো অন্ধকার রাত।প্রত‍্যেক মানুষকেই জ্বালিয়ে নিতে হবে তার নিজের আলো।প্রতিটি মানুষের হাতের আঙ্গুল দশটি।অথচ সবাই চায় যত পারে,যতটা পারে থাবা দিয়ে ধরতে।প্রতিটি মানুষের ‍মধ‍্যে লোভ লালশা,হিংসা,কাম,ক্রোধ লুকায়িত আছে।ক্ষেত্র বিশেষে এ গুলো প্রকাশ পায়।এ গুলো পরিহার করা উচিত।তা না হলে এগুলো একদিন মানুষের চরম সর্বনাশ করে ছাড়বে।
কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।আবার বিশ্বাস না করলেও চলেনা।নিজের সামনে কোন মাল মাপলেও দেখা যাবে ওজনে কম দিয়েছে।এমনকি ভালো মালের সঙ্গে খারাপ মাল মিশিয়ে বিক্রি করছে। অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করা ভালো।বেশি কথা বলা ভাল নয়।সম্ভব হলে মুখ বুজে শুনে যেতে হবে।হঠাৎ করে কোন ব‍্যাপারে মত দেয়া উচিত নয়।এমন কি কে কি ভাববে বা মনে করবে এসব ভাবনা মনে করে লাভ নেই,নিজে না পড়ে কোন কাগজে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা উচিত।তেল মারা ব‍্যক্তিদের ব‍্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। খারাপ ব‍্যাক্তিরা ভালোদের ব‍্যবহার করে ফায়দা লুটে। কৃপন ও মিথ‍্যুকদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত। এদের বুদ্ধি নিয়ে কোন কাজ না করাই ভালো।কেননা এই সব ব‍্যাক্তিরা বিপদে সটকে পড়ে।সাবধানে ও বুঝে শুনে পথ চলা ভালো।শুধু কথা দিয়ে কোন শহর বা নগর গড়ে উঠেনি।উঠেছে জ্ঞান,টাকা ও হাতুড়ের ঘায়ে।বুদ্ধির সঙ্গে কিছুটা শক্তির পরিচয় দেয়া ভালো।অবশ‍্য সব সময় নয়। যারা দূর্বল ও ক্ষীণ এদের দারা সমাজের কোন উপকার হয় না।মহান শ্রষ্ঠা মানুষকে পাঠিয়েছেন অবোধ শিশু করে। কিন্তু তিনি চান তারা যেন হয় জ্ঞানবন্ত বুড়ো।যত বিদ‍্যে তত সিদ্ধি।যতবেশী গ্রহন তত নির্ভাবন। তাই মৃত‍্যু পর্যন্ত বেশি বেশি লেখা পড়া ও জ্ঞানী মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে জ্ঞান অর্জন করা উচিত।আমাদের আশে পাশে অনেক কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সেখান থেকেও কিছু শেখার আছে।নিজেকে অন‍্যদের চাইতে জ্ঞানী মনে করার কোন কারণ নেই।এটি অহংকার।অহংকার পতনের মূল।মানুষকে সম্মান দিবেন তা হলে আন্তরিক সম্মান পাবেন।মেকি সম্মান না নেয়ায় ভালো। ফিটফাট পোশাকের ও মিষ্টভাষী এবং দেখতে সুন্দর ভদ্রলোকদের ব‍্যপারে সতর্ক থাকা উচিত।মাহাকাল ফলও দেখতে সুন্দর কিন্তু এর ভেতর এবংখেতে খুব খারাপ।সুযোগ পেলে এসব ব‍্যাক্তিরা টাকা,ধনসম্পদ ও মেয়েদের এমনকি রাষ্ট্রেরও ক্ষতি করে। তারা জানে কাজ হাসিলের জন‍্য কেমন করে কথা বলতে হয়।একবার যদি তাদের কথা বিশ্বাস করা হয় তা হলে সব যাবে।ছোট মেয়েরা তোমাদের ছোট জুতো বড়দের ব‍্যবহার করতে দিবেনা।যদি দাও তাহলে তারা জুতো ছিড়ে ফেলবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দুনিয়ায় ভালো ও সৎ লোকদের সম্পদ না থাকলেও সুখি হয়। কিন্তু তারা খারাপ লোকদের কারনে অসুখি হয়।খারাপ লোকেরা ভালো মানুঢ়ষদের চাইতে বেশি চালাক ও চতুর হয়।আর হয় সৌভাগ্যবান।কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় সত‍্য ও ভালোর কাছে।তখন তারা অসুখি হয় এমনকি প্রাণনাশও হয়।
লেখক:

হোসেন শাহনেওয়াজ
সিনিয়র সাংবাদিক ও সংগঠক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  • শেয়ার করুন

সর্বশেষ খবর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com