জরুইন স্টুডেন্ট ফোরামের অন্যরকম আয়োজন | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

জরুইন স্টুডেন্ট ফোরামের অন্যরকম আয়োজন

জরুইন স্টুডেন্ট ফোরামের অন্যরকম আয়োজন

বর্তমানে প্রত্যেকটি স্কুল-মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্যে দাপটের সহিত চালিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে তাদের ছেলে-মেয়ের কোচিং ফি প্রদান করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়-গ্রামের অতি সাধারণ মানুষ; যিনি সংসারের হালটা ধরে রাখতে জানটা বের হয়ে যায়। তাকেও বাধ্য হয়ে কোচিং ফি জোগাড় করতে হয়। ঘরে খাবার থাক আর না থাক। ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে হলে অরিক্তি খরচ : কোচিং ফি প্রদান করতে হবে। অন্যথায পরীক্ষায় পাস করা মুশকিল। এছাড়ারা দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অনেক কোচিং সেন্টার। অন্যদিকে গাইড বই নিষিদ্ধ থাকলেও গাইড বই ছাড়া এক মুর্হুত চলে না। স্কুলে-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষকরা বাধ্য করায় গাইড বই ক্রয় করতে। এভাবেই চলছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। তার মধ্যে ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জরুইন স্টুডেন্ট ফোরাম।
কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় অবস্থিত জরইন একটি গ্রাম। এই গ্রামের বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরা গঠন করে স্টুডেন্ট ফোরাম নামের একটি সংগঠন। তাদেরকে সহযোগীতা করে গ্রামের কিছু ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবি। ব্যবসায়ী আর চাকুরিজীবিরা মিলে অর্থে যোগান দিচ্ছে আর ছাত্ররা নিচ্ছে নতুন নতুন উদ্দ্যেগ। মাদক মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করতে গিয়ে তারা হাতে নিয়েছে নানা রকম পদক্ষেপ। মাদকের খারাপ দিকগুলো নিয়ে উঠতি বয়সী যুবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ প্রদান দেয়। এছাড়া তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রদক্ষেপ গ্রহন করে তা হলো পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদেরকে টাকা ছাড়া কোচিং করানো। তারা বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে টাকা ছাড়া ৩মাস ধরে কোচিং করিয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মোঃ রাশেদ হাসান, মোঃ জিহাদ হাসান এবং সোনার বাংলা কলেজের ছাত্র মোঃ তারেকুল ইসলাম এই মহৎ কাজটির দায়িত্ব নিয়েছে। তাদেরকে উৎসাহ-উদ্দিপণা প্রদান করেন একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রির্পোটার মনির মিল্লাত,কালী নারায়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন,বুড়িচং এয়ার ট্রাভেলসের পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ সুজন,ব্যবসায়ী আঃ জলিল, সমাজসেবক আঃ জলিল ভূইয়া।

পরীক্ষা উপকরণ হাতে কিছু ছাত্র-ছাত্রী
গত ২৬ অক্টোবর শুক্রবার সকালে স্টুডেন্ট ফোরামের ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পরীক্ষার উপকরণ। একটি প্লাষ্টিকের ফাইল,দুটি কলম, একটি পেন্সিল, একটি কাটার। আর এই উপকরণগুলোর জন্য অর্থায়ন করেন এক সময়ের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রির্পোটার মনির মিল্লাত।
এভাবে যদি প্রত্যেকটি গ্রামের চাকুরিজীবি ও ব্যবসায়ীরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এগিয়ে আসত। তাহলে স্কুলে-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা মাদকের কড়াল গ্রাসে পতিত হতো না। আর ঝড়ে পড়তো না কোন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা। টাকার অভাবে অনেক মেধাবীরাই লেখা-পড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয়। আজও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হতে পারে না অনেক ছেলে-মেয়ে। আবার হাই-স্কুল থেকেও ঝড়ে যায় অনেকেই। এই ঝড়ে পড়ারোধ করতে গ্রাম ভিত্তিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামে গ্রামে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। তাহলে প্রতিটি গ্রামে নিরক্ষরতার হার কমবে এবং সকল কাজে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। ফলে উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হবে।
অশিক্ষা আর মাদকের ছোঁবলের কারণে সমাজ ব্যবসায় যে মৌলিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তা ক্রমান্বযে বিলুপ্ত হবে,যদি প্রতিটি সমাজ ব্যবস্থায় জরুইন স্টুডেন্ট ফোরামের মতো প্রদক্ষেপ গ্রহন করে। দুষ্কৃতি ও হিংস্বা পরায়নতা যেভাবে সামাজিক জীবন ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলেছে। তা থেকে উদ্ধার হওয়ার একমাত্র উপায় হলো মানুষের ভেতরের মানুষটা কে জাগিয়ে তোলা। যখন একজন মানুষ তার মানবিক গুণাবলী সর্ম্পকে অবগত হবে এবং জানতে পারবে মানুষ হতে হলে মানবিক গুনাবলী থাকতে হবে: তখন সে তার ভেতর থেকে খারাপ আচরণ ও বৈশিষ্টগুলোকে ত্যাগ করবে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হবে মানবতার বন্ধন। সত্যিকার মানবতা ফিরে আসুক সমাজ ব্যবস্থায়।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com