কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের নির্দেশনা অমান্য করায় বুড়িচংয়ে ৩ যুবদল নেতাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের নির্দেশনা অমান্য করায় বুড়িচংয়ে ৩ যুবদল নেতাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা

কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের নির্দেশনা অমান্য করায় বুড়িচংয়ে ৩ যুবদল নেতাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা

কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের নির্দেশনা অমান্য এবং দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করার প্রতিবাদে ১৯ আগষ্ট সোমবার বিকাল ৫টা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের যুবদলের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে টাকার বিনিময়ে পকেট কমিটি ঘোষনা করার কারণে যুবদল থেকে বাবলু,নাছের,পারভেজকে বহিষ্কারের দাবীতে এক প্রতিবাদ সভা কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোসলেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ভারেল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফরিদ খান মেম্বার,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জলিল ও আকবর হোসেন,৮টি ইউনিয়ন যুবদলের প্রতিবাদ সভা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হাফিজ।
ময়নামতি ইউনিয়ন যুবদলে সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল আলমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ভারেল্লা উত্তর যুবদলের সভাপতি মোঃ আবদুল হান্নান,ভারেল্লা দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান খোকন,ভারেল্লা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ফারুক,ময়নামতি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক ভুইয়া স্বপন সহ আরো অনেকে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, যুবদলের গঠনতন্ত্রে ধারা-৮ এ বলা হয়েছে; যুবদলের কমিটি গঠন করতে হলে প্রথমে আহবায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। ঐ কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। এটা না করলে গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে। তাহলে কিভাবে গঠনতন্ত্রের অনুসরণ না করে সম্মেলনবিহীন কমিটি দেওয়া হলো। গঠণতন্ত্রের ধারা-৮ এ আরোও বলা হয়েছে,সভাপতির অবর্তমানে ১নং সহ-সভাপতি নতুন সভাপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করবেন। তবে ১নং সহ-সভাপতি নতুন কমিটি গঠন,পরিবর্তন,পরিমার্জন ও শুন্যপদ পূরণ করতে পারবেন না। গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ নেই। তাহলে বাবলু গঠনতন্ত্রের কোন আইন বলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন। আবার যুবদলের গঠনতন্ত্রে বলা আছে,কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সংগঠনের কোন ইউনিট কমিটিতে সিনিয়র সভাপতির পদ নেই। তা হলে যুবদলের নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন বাবুল ঐ পদ কোথায় পেল।

যুবদলে গঠনতন্ত্রের ধারা-১৫ এ বলা হয়েছে, সংগঠনের নথিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর দিবেন; অন্য কেউ স্বাক্ষর করলে সংগঠন বিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে। তাহলে বাবুল ও পারভেজ দলের পেইডে কিভাবে স্বাক্ষর দেয়। নিশ্চয়ই তারা দলের গঠনতন্ত্র লঙ্গন করেছেন। যেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের স্বাক্ষর করা এখতিয়ার নেই; সেখানে তাদের স্বাক্ষরিত তথাকথিত কমিটি কিভাবে বৈধতা পাবে। অন্যদিকে গত ২৫ জুলাই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দলের পেইডে স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে,বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অর্থ্যাৎ ইউনিয়ন হলে বিএনপি’র উপজেলা কমিটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত সুপারিশপত্র থাকতে হবে। আমরা জেনেছি ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কোন লিখিত সুপারিশ তো দূরের কথা,নেতৃবৃন্দের সাথে কমিটি গঠনের বিষয়ে কোন প্রকার কথা-বার্তা হয়নি। তা হলে কি-বাবলু,নাছির,পারভেজ কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনা অমান্য করেছে। অন্য দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালা উদ্দিন টুকু নির্দেশে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যুবদলের কোন ইউনিটের কমিটি গঠন,পূর্নগঠন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। তারা যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশাও অমান্য করেছে।
গঠনতন্ত্রের ধারা-১৫(খ) এ বলা হয়েছে; গঠনতন্ত্র বর্হিভূত কাজ গর্হিত অপরাধ এবং তা সংগঠন বিরোধী কাজ বলে গণ্য হবে ও এই কাজের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তাহলে বাবলু, নাছির,পারভেজ এই অপরাধের অপরাধি। তারা বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা, অমান্য করেছে এবং দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এর তীব্র প্রতিবাদ করে জানান, এজন্য তাদেরকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা জন্য বুড়িচং উপজেলা ৮টি ইউনিয়নের যুবদল কমিটির নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদপত্র বুড়িচং উপজেলা বিএনপি ও কুমিল্লা জেলা যুবদল বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বক্তারা বলেন,প্রতিবাদপত্রে আমাদের দাবী যারা দলের গঠনতন্ত্র পড়ে না,জানে না,বুঝে না এবং গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করে; কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের নির্দেশনা মানে না, এই কথিত পকেট কমিটির নেতারা টাকার বিনিময়ে আপদকে পদ দেওয়ার অপচেষ্টা করে বুড়িচং উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ভূয়া কমিটি গঠন করে। যা দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ করার অপরাধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক বাবলু,নাছের ও পারভেজকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তাদের দ্বারা স্বাক্ষরিত ভূয়া কমিটি ও তাদের সকল কার্যক্রম বাতিল করার দাবী জানানো হয়েছে।
যে বাবলু ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হয়,সেই বাবলু কিভাবে উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতির পদ পায়? আবার যে পারভেজ বুড়িচং ইউনিয়ন যুবদলের সাংঠগনিক সম্পাদক পদের প্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হয়; অথচ কিভাবে তারা এক লাফে উপজেলা কমিটির বাবলু সহ-সভাপতি ও পারভেজ সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পায়।
প্রতিবাদ সভায় বুড়িচং উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন রাজাপুর,বাকশীমুল, বুড়িচং সদর, ষোলনল, পীরযাত্রাপুর, ময়নামতি, ভারেল্লা উত্তর, ভারেল্লা দক্ষিণ যুবদলের নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণাপত্র প্রেস করেন। ঘোষণা পত্রে বলা হয়-আজ (১৯.০৮.১৯ সোমবার) থেকে বাবলু, নাছের, পারভেজ বুড়িচং উপজেলার সকল ইউনিয়নে অবাঞ্চিত ঘোষনা করছি। তাদেরকে বুড়িচং উপজেলার যেখানে গঠনতন্ত্র ও দলবিরোধী কাজ করবে সেখানেই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। বক্তারা আরোও বলেন,বুড়িচংয়ে আমরাই জাতীয়তাবাদের ধারক ও বাহক। প্রায় ৯ বছর ধরে ইউনিয়ন যুবদলের দায়িত্ব পালন অবস্থায় কেন্দ্রীয়,জেলা ও উপজেলা বিএনপির দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছি। আন্দোলনে সকল সময় রাজপথে ছিলাম। এই কারণে বর্তমান সরকারের রোষানলে পরে আমরা অনেকেই ৪/৫টি করে মামলার আসামী হয়েছি।
প্রতিবাদ সভায় ৮টি ইউনিয়নের যুবদলের নেতৃবৃন্দ সদ্য ঘোষিত বুড়িচং উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এটিএম মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব মোঃ কবির হোসেনসহ যুগ্ম আহবায়ক ও কমিটির সকল সদস্য।
ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মোঃ জসিম উদ্দিন,সদস্য সচিব সরকার জহিরুল হক মিঠুন ও যুগ্ম আহবায়কসহ সকল দুই উপজেলার সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। বক্তারা বলেন, এই কমিটির নেতাদের গতিশীল নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশ রক্ষার আন্দোলন আরোও বেগবান হবে।

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com