কৃষি ও কৃষকই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির প্রথম সুর: শাইখ সিরাজ

কৃষি ও কৃষকই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির প্রথম সুর: শাইখ সিরাজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলার খেটে খাওয়া তৃণমূল কৃষক শ্রেণির স্বপ্নের নায়ক। বহু যুগের বঞ্চনার পথ পেরিয়ে তার মাধ্যমেই রচিত হয়েছিল প্রান্তিক জনগেষ্ঠি মুক্তির সোপান। কৃষি ও কৃষকই ছিল তার সাহসের মূল জায়গা। 
ফসলের মাঠই যেন বঙ্গবন্ধুর শৈশবে দেখতো কয়েক’শ বছরের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন, বাঙালির শত বঞ্চনা একদিন ঘুচবেই। তার রাজনীতি ছিল দাওয়াল নামের কৃষি শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায়, তার রাজনীতি ছিল নিজের গোলা উজাড় করে দরিদ্র মানুষের মুখে খাদ্য পৌছে দেয়ার।
বঙ্গবন্ধু তার মনে লিখে রাখতেন অগণিত প্রান্তিক গ্রামবাসীর নাম আর চেহারা। আর তাদের পক্ষে যেকোনো শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক রণেশ মৈত্র বলেছেন, ওনার দল না করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু তার ডায়েরিতে আমার নাম ছয় বার উল্লেখ করেছেন। যার সাথে সাথে একবার দেখা হয়েছে তার নাম শুনে রাখছেন। ৫ বছর পর যখন সেখানে গেছেন তখন নাম ধরে ডাকছেন।
প্রত্যেক কৃষককে যখন তিনি মাঠে কাজ করতে দেখেছেন তখন তিনি তাদের দেখে সালাম দিয়েছে, পরবর্তীকালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ওই কৃষকের নাম ধরে ডাক দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর চাচাত ভাই শেখ বোরহান উদ্দিন।
বিরাট মুক্তি সংগ্রামের পথ পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যখন উড়লো স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, তখনও তাকে সমৃদ্ধির পথ দেখালো কৃষি ও কৃষক।
বঙ্গবন্ধু প্রথম সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলেন কৃষকের মর্যাদা। তাঁর মানবমুক্তির দর্শন আজও বিস্ময় জাগায় গবেষকদের।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যে রাজনীতি করেছেন তার একটি ভিত্তি ছিল, সেই ভিত্তিটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি একই ভিত্তি পাই। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে বলেছেন আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই।
এরপর সরকার পরিচালনায় তার দীর্ঘ স্বপ্ন পথ কেবলই খুলতে শুরু করেছিল, তখনই থেমে যায় সব।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমাদের কৃষি ছিল বৃষ্টি নির্ভর এবং প্রকৃতি নির্ভর। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বুঝেছেন যে আমাদের সেচ ব্যবস্থাকে বৃদ্ধি করতে হবে। এই জন্য উনি ৪ হাজার ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েছিলেন। পূর্ব জার্মানি থেকে কার্গোতে করে ৩৫ হাজার এলএলবি পাম্প নিয়ে এসেছিলেন। এতেই বোঝা যায় তিনি কৃষিকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড.এ এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, জুলাই মাসে একটা দিনে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমাদের একটা মিটিং ছিলো। সেই সভায় বাংলাদেশের খাদ্য অভাব নিয়ে অনেক কথা হয়। ব্লু প্রিন্ট করে একটা বই আমার হাতে দিয়ে বলেছিলেন, এই বইটা আপনি নিয়ে যান, যা পরিবর্তন করার করবেন আবার ১৬ আগস্ট আমাদের মিটিং হবে। সেই ১৬ আগস্ট আর কোনদিন এলো না।

সুত্রঃ চ্যানেল আই

  • শেয়ার করুন

সর্বশেষ খবর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com