আলোকিত মানুষ-অধ্যাপক আবদুল ওহাব | Ekushey Bangla | একুশে বাংলা

আলোকিত মানুষ-অধ্যাপক আবদুল ওহাব

আলোকিত মানুষ-অধ্যাপক আবদুল ওহাব

এখনো স্মৃতিতে ভাসছে বৃহত্তর কুমিল্লার (আঞ্চলিক) প্রথম জাতীয় দৈনিক রূপসীবাংলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওহাব স্যারের সুন্দর ভাসা ভাসা চোখ, চমৎকার স্বাস্থ্য , প্রসস্থ হাসিমুখ, মাথায় টুপি, গায়ে সাদা খদ্দরের পাঞ্জাবী, হাতে কোরআন শরীফ। স্যারের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাতের সময়ের কথা, তিনি ৫ থেকে ৬ মিনিট কোরআন তেলাওয়াত শেষে চুমু খেয়ে নাস্তার কথা বললেন। নাস্তা হাজির , এই মেয়ে জাবিরের জন্য ও নাস্তা আনো বলে, স্যার আমাকে বললেন , জাবির আমি মনের মতো লোক পাচ্ছি না ? আমি বললাম কি ব্যাপার স্যার, তিনি বললেন ধর্মীয় বিষয়ে একটা বিভাগ চালু করতে চাই, তুমি কি পারবে? এক শ্বাসে কথাগুলো বললেন তিনি। আমি বললাম স্যার অনেক দিন ধরে এমন একটা কথা বলবো ভাবছি এবং তরুন ভাইয়ের সাথে এ বিষয়ে কথাও হয়েছে কিন্তু আপনার সাথে বলতে সাহস পাচ্ছি না। তখন স্যার ধমক দিয়ে বললেন, এই ছেলে আমি কি বাঘ না ভাল্লুক, আমার কাছে মানুষ আসতে ভয় পায়। এর ফাঁকে নাস্তা শেষ। তারপর আমাকে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত পড়ে শুনিয়ে ব্যাখ্যা করতে বললেন এবং আধ্যাত্মিকতার অনেক উচু মানের কিছু কথা বলে হঠাৎ কয়েক মিনিট চুপ করে রইলেন। তারপর নতুন বিভাগটির কি নাম হবে এ বিষয়ে জানতে চান। তখন আমি কয়েকটি নাম বললে, স্যার “ধর্মের আলো”নামটি পছন্দ করেন এবং এ বিভাগটি কিভাবে সুন্দর করা যায় এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে আমার পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করলেন। আমাদের বাড়িতে আসতে চাইলেন, আমি বললাম ঠিক আছে স্যার। কিন্তু দুর্ভাগ্য ! স্যারকে আমার বাড়িতে আনতে পারলাম না। স্যার যে এভাবে চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি। যেকোন মৃত্যুই অপ্রত্যাশিত। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এখন শুধু স্মৃতিতে। “জাবির” বলে স্যার আমাকে যেভাবে ডাকতেন আমি আর কখনো সে ভালোবাসার ডাক শুনব না, এমন ভালোবাসার বটবৃক্ষের সুশীতল অভিভাবকের ছায়ায় মিনিটের পর মিনিট দাঁড় করিয়ে হৃদয়ের আকুলতা কেউ প্রকাশ করবে না, ধমকও দেবে না। আমার লেখালেখি জগতের গুরু আজ আপনাকে স্মরণ করছি গভীর হৃদয়ে। স্যার ধর্মের ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতার কথা খুব দুঃখের সাথে বলতেন। তিনি ৬৩ বছর এই রুপসী পৃথিবীর জনপদে বিচরন করে আলোর সন্ধান করেছিলেন। তিনি ছিলেন আলোকিত মানুষ। জ্ঞানের আলোতে তার অন্তর আত্মা উদ্ভাসিত হয়েছিল। মুক্তমনে, মুক্ত চিন্তার চর্চা করেছেন, কোন ঘোর ও আচ্ছন্নতার মধ্যে ছিলেন না। জনপদে হেঁটে জনারন্যে মিশতেন বলে সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনা লেখায় প্রকাশ পেত। তিনি ছিলেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। একাধারে শিক্ষক, কবি, লেখক, সাহ্যিতিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সংগঠক, মানবপ্রেমি, চিন্তা-চেতনা ও পোষাকে আশাকে খাঁটি বাঙালি। এক কথায় বিশাল হৃদয়ের কিংবদন্তী এক মানুষ। মানুষকে ভালোবাসা যদি এবাদত হয়, তবে স্যার নিঃসন্দেহে জান্নাতুল ফেরদাউস পাবেন। দেশবরেন্য সাংবাদিক শিক্ষাবিদ সাহ্যিতিক অধ্যাপক আবদুল ওহাবের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তিনি ৩ আগস্ট ২০০৩ সালের আজকের এই দিনে এ দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপাড়ে চলে যান। তার মৃত্যুতে কুমিল্লাবাসীসহ মিডিয়া জগতে প্রায় মাসব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এবং বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ অব্যাহত রাখে। আমি আল্লাহর দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি। অধ্যাপক আবদুল ওহাব-তুমি সার্থক মানুষ, সার্থক মুসলমান, সার্থক বাঙালি, সার্থক অভিভাবক। পরিশেষে আমার লেখা কবিতাটি দিয়ে শেষ করতে চাই। কবিতাটি স্যার মৃত্যুর ৩ দিন পর, ৭ আগষ্ট ২০০৩ বৃহস্পতিবার দৈনিক রূপসী বাংলায় প্রকাশিত:-লাশ দেখে কি ভাবতে পারো এইতো হলে আবদুল ওহাব ? আবদুল ওহাব ! ভাবতে বসো, হৃদয় হবে জমাট হিম আত্মাই হলো আসল ওহাব, সে আত্মাটা উড়াল দিলে যোজন যোজন পথ মাড়িয়ে, মিলবেনা আর সে ওহাব।
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, আলেম, কলামিষ্ট ও সাংবাদিক, বুড়িচং-কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৭১৮-২২৮৪৪৬,

ফেসবুক মতামত

সর্বশেষ খবর

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com