আপেলের মূল্য ছাড়িয়ে পিঁয়াজ, কানার হাতে কুড়াল সমাচার

আপেলের মূল্য ছাড়িয়ে পিঁয়াজ, কানার হাতে কুড়াল সমাচার

🔵মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান

জায়গা মতো সাধারণ মানুষের প্রকৃত বান্ধব বা প্রতিনিধি না থাকায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যভাবে বললে জনবান্ধব মানুষগুলো জায়গামতো না থাকায় মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটছে না।এককথায়, দায়িত্বশীলদের অভিজ্ঞতার অভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধী চক্র। এর খেসারত দিচ্ছে আমজনতা।

বাজারে নতুন পিঁয়াজ উঠেছে। পাতাসহ পিঁয়াজ নজর কাড়ছে। অথচ আড়ৎ থেকে শুরু করে মহল্লার মুদি দোকানের কোথাও সামান্যতম অভাব নেই।গুদামভর্তি পিঁয়াজ চোখে পড়লেও সাধারণ জ্ঞানের অভাব যাদের, কেবল তারাই অভাব বোধ করছে। যারা চর্ম চোখে পিঁয়াজের ঘাটতি কোথাও দেখছেন না, চোখ থাকতে অন্ধদের চোখে তা না পড়ারই কথা।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সিন্ডিকেটের সঙ্গে গলায় গলায় পীরিত থাকলে নাকি এমনটাই হয়।সিন্ডিকেট আর দায়িত্বপ্রাপ্তরা একাকার হয়ে যাওয়ায় নাকি পিঁয়াজের ঝাঁজ কমছে না। অযথাই সংকটের কথা বলে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।কৃত্রিম সংকটও তারা দেখাতে পারেনি। অথচ ভুয়া কথায় দায়িত্বশীলরা আমদানিসহ টিসিবির মাধ্যমে পিঁয়াজ বিক্রিতে ব্যস্ত!

কী কাজের কাজি রে বাবা। মূলে না গিয়ে, হিসাব না কষে; অসাধু আমদানিকারকদের কথায় ফাল দিয়ে তারা সিন্ডিকেটকে বৈধতা দিয়েছে বৈকি।ঘটনা অনেকটা ‘চিলে কান নিয়েছে’, আর কানে হাত না দিয়ে দৌড়াচ্ছে আর বলছে ‘চিলে আমার কান নিয়েছে’!এ জন্যই মনে হয় হুজুকে বাঙালি বলে কথাটা খুব খুব বাজার পাচ্ছে। তবে এটা আমজনতার বেলায় খাটে, দায়িত্বশীলদের জন্য যা বড়ই লজ্জার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন তোফায়েল আহমদের মতো বরেণ্য জাঁদরেল হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। সংসদে এবং রাজনীতিতে যখন ব্যবসায়ীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে গেছে, তখন ঝানু লোকজনকেই এই মন্ত্রণালয়ে দেওয়া ছিল অধিক যুক্তিযুক্ত। কথায় আছে ‘কিছু ধারে কাটে আর কিছু ভারে কাটে’- ‘গাইও না, বলদও না’ মার্কা লোকদের দিয়ে রুটিন ওয়ার্ক ছাড়া আর কিছুই যে করা যায় না, পিঁয়াজের ক্ষেত্রে সেটা্ ষোলোআনা বুঝে গেছে সচেতন দেশবাসী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গেল মৌসুমে পিঁয়াজের উৎপাদন ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন ধরে চাহিদা ও জোগানের হিসাব কষেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আমদানি না হলেও যে পরিমাণ পেঁয়াজ আছে, তা দিয়ে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে।’ শতভাগ হককথা।এমন দালিলিক প্রমাণের পরও কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেইর মতো অবস্থা অপরিণামদর্শী দায়িত্বশীলদের।

কেবল একজন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের তথ্যই নয়, এমনকি ডিএই’র উৎপাদনের হিসাব ও আমদানির পরিসংখ্যান যোগ করলে দেখা যায়, দেশে এখন পেঁয়াজের জোগানে টান পড়ার বদলে দুই লাখ টন বাড়তি থাকার কথা। এসব পরিসংখ্যান আমলে না নিয়ে গাঁজাখোরের মতো পিঁয়াজ সিন্ডিকেটের কথায় আগ-পিছ না ভেবে ‘চিলে কান’ নেওয়ার গল্পের বেকুবের মতো দৌড়াচ্ছেন দায়িত্বশীলরা।

সিন্ডিকেট আর প্রশাসন চোর-পুলিশ খেলার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো ক্রেতাদের পকেট সাবড় করার মওকা পেয়ে গেছে।শুরু থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীর নানা ধরনের কথায় তারা এ সুযোগকে আরো বেশি কাজে লাচ্ছে। গতকালও তিনি বলেছেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো সময় লাগবে।’ এ সময়টা কার পক্ষে যাচ্ছে আর কারা এর সুফল লুফে নেবে আর কারা ভোগবে- এ সাধারণ জ্ঞানটা যার নেই, তিনি কেমন দায়িত্বশীল! প্রশ্ন হলো, তিনি কার প্রতিনিধি- সিন্ডিকেটের, না জনগণের।

অস্বাভাবিক মূলবৃদ্ধির পর মানুষ পিঁয়াজ কেনা ও খাওয়া অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। কিনছে খুব সীমিত আকারে। আগে যারা সচরাচর ১০ কেজি কিনত, তারা এখন কিনছে মাত্র আধা কেজি। বাজারে এক কেজি পিঁয়াজের মূল্য এক কেজি আপেলের মূল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে ফলাও করে আসছে। এর পরও দায়িত্বশীলরা দাঁত কেলিয়ে যখন বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে’, তখন অভিজ্ঞ মহল মনে করে ‘কানার হাতে কুড়াল পড়েছে

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com