আখাউড়ায় বেড়েই চলেছে ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা

আখাউড়ায় বেড়েই চলেছে ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা

আখাউড়া প্রতিনিধি:
ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তঘেষা আখাউড়া উপজেলায় শীতে শিশুদের বেড়েছে বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ-ব্যাধি। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নবজাতক ও শিশুরা। অন্যদিকে বয়স্ক মানুষেরাও একই রকম ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগগুলোর মধ্যে কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাসজনিত কারণে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া। ডায়রিয়ায় শিশুরা বেশি ভুগলেও বয়স্কদেরও ডায়রিয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে হাসপাতালে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শীতকালীন ডায়রিয়া, ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ ফ্লু ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে আসছে। এ ছাড়া ১২ থেকে ১৫ শতাংশ নিউমোনিয়া এবং দুই বছরের কম বয়সীরা ব্রংকাইটিস ও হাঁপানি সমস্যা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ টি শিশু। তবে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরের শুরুতে ১জানুয়ারি থেকে সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ২০ জন শিশু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে যার মধ্যে বেশির ভাগই ডাইরিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু। চিকিৎসকেরা বলেছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা হঠাৎ করে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। এসব শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) সুধাংশু চৌধুরী বলেন, চলতি মাসে সোমবার পর্যন্ত ১০ দিন ধরে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন বয়সের শিশু রোগী ভর্তি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি বলেন, মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুদের এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে এবার সেই হার অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: শীতে হজমের সমস্যা দূর করতে ডায়েটে রাখুন এই খাবারগুলি
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান যমুনা টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, শীতে শিশুদের প্রতি একটু বিশেষ নজর রাখলে ঠান্ডাজনিত রোগ এড়িয়ে যাওয়া যায়। যেমন শিশুকে গরম পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। সেটি না পারলেও শিশুর গায়ে যেন গরম জামা-কাপড় থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। খোলা হাওয়ার মধ্যে শিশুকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ঠিক হবে না। শিশুকে মায়ের অথবা অভিভাবকের কাছাকাছি রাখতে পারলে এদের যত্ন নেয়াও সম্ভব হয়। ফলে অনেক রোগব্যাধি থেকে শিশুদের রক্ষা করা যায়। রোগ হলে বেশি দেরি করা মোটেও উচিত নয়।
আরও পড়ুন: শীতে শিশুদের সুস্থ রাখবে যে ৫ খাবার
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম দিকেই ওষুধ খাওয়ানো হলে শীতের রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকা যায়। ঠান্ডা-কাশির প্রথম দিকেই সঠিক ওষুধ দেয়া হলে তা শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় পরিণত কমই হয়ে থাকে। এ অবস্থায় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্নের আহ্বান জানান তিনি।

/এনএএস

সুত্রঃ যমুনা টিভি

  • শেয়ার করুন
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com